শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কুমিল্লা নগরীতে বিক্ষোভ করেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে তিন দফা দাবি জানায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
এর আগে সোমবার রাত থেকে ২০২৬ এইচএসসি ব্যাচের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পরীক্ষার্থীরা আন্দোলনের ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তারা কুমিল্লা কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।
বিক্ষোভে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা সরকারি কলেজ, রূপসী বাংলা কলেজ, কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, সোনার বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের দুই শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, দেশের সকল কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাবিগুলো হলো দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে, যারা বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তাদের পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
পরীক্ষার্থী আবু সালেহ রনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন। এ পর্যন্ত যেসব বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে এসব প্রশ্ন মনগড়া। তাই এ শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্বে থাকলে শিক্ষা ধ্বংস হয়ে যাবে।
পরে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাউদ্দিন, কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার শিক্ষাবোর্ড ফটকের সামনে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এ সময় পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষাবোর্ডের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা তোমাদের (পরীক্ষার্থী) সব কথা শুনেছি। দাবিগুলো আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, পরীক্ষার্থীরা শিক্ষাবোর্ডের প্রধান ফটকে অবস্থান নিলে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরীক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখান থেকে হয়তো পরে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসলে জানাতে পারব।
এএন