উন্নত পানিকচুর জাত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বারির উদ্যোগ

গাজীপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ‘কন্দাল ফসল গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্প’-এর আওতায় পানিকচুর উন্নত জাতের বিস্তারবিষয়ক এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ জুলাই গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার তরৎপাড়া গ্রামে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারির পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো. মোশাররফ হোসেন মোল্লা।

তিনি বলেন, দেশে বিভিন্ন ধরনের পানিকচুর চাষ হলেও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত পানিকচুর ৯টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। এসব জাত গলাধরামুক্ত, সহজে ও সমানভাবে সিদ্ধ হয় এবং উচ্চ ফলনশীল। তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে অন্যান্য সবজির সরবরাহ কমে গেলে কচুর লতি ও অন্যান্য কচুজাতীয় ফসল দেশের সবজির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শামসুল আলম। তিনি বলেন, কচুর লতি বর্তমানে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি সবজি। দেশে উৎপাদিত মোট কচুর প্রায় এক-চতুর্থাংশই কচুর লতি, যা এর ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রমাণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘কন্দাল ফসল গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, কচু একটি আয়রনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর ফসল। বিশেষ করে কচুর লতি রক্তশূন্যতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই উন্নত জাতের চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এ সময় কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফেরদৌসী বেগমসহ স্থানীয় কৃষক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, সম্প্রসারণকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মাঠ দিবসে উন্নত জাতের পানিকচুর বৈশিষ্ট্য, চাষাবাদ পদ্ধতি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষকের মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, উন্নত জাতের পানিকচুর চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

এএন