সুনামগঞ্জ মানবপাচার মামলার আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

আবু হানিফ, সুনামগঞ্জ প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

চলতি বছরের প্রথম দিকে মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচনায় সুনামগঞ্জের ১৫ জন যুবক সাগরে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে জামালগঞ্জের লালপুর গ্রামের খুরশেদ মিয়ার পুত্র সুমন মিয়া বেঁচে যান। তিনি এখন লিবিয়ার জেলহাজতে আছেন। আদম ব্যবসায়ী চক্রের মূল হোতা সুলতান সরদার ও তার স্ত্রী ঝরনা বেগমকে বিভিন্ন সময়ে ২৪ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও কারাবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন সুমন। ওই সময় সুমনের সঙ্গে থাকা বাংলাদেশি অনেক যুবক ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ডুবে যান। এতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়।

মানবপাচারকারী চক্রের তিন সদস্য সুলতান সরদার, তার স্ত্রী ঝরনা বেগম এবং সুলতান সরদারের পিতা শুকুর আলী সরদারের বিরুদ্ধে সুমনের বড় ভাই সাজিবুর রহমান বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে জামালগঞ্জ থানায় এফআইআর করার পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। মামলাটি গত ৮ মে রুজু করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী সাজিবুর রহমান জানান, আদমপাচারকারীদের ২৭ লাখ টাকা দিয়েছেন, যার ডকুমেন্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তার ভাই লিবিয়ার কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাকেও উদ্ধার করতে পারছেন না। এ মামলার কোনো আসামিও এখন পর্যন্ত আটক হয়নি।

এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পঙ্কজ ঘোষ জানান, আসামিদের পিসিপিআর যাচাইসহ গ্রেপ্তারের জন্য রাজবাড়ী থানার ওসিকে পত্র দিয়ে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী জানান, আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।

এএন