গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে স্বামী রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত সম্পা আক্তার (৩২) কালিয়াকৈরের সফিপুরের আন্দারমানিক জামতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ ১৮ জুলাই) রাতে পারিবারিক কলহের জেরে রাসেল তাঁর স্ত্রী সম্পা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং আত্মহত্যা বলে প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি সম্পার মরদেহ জিরানী এলাকার কেপিজে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লাশ রেখে নিহতের স্বজনদের ফোন করে সম্পা আত্মহত্যা করেছে বলে জানান।
তবে সম্পার মরদেহের অবস্থা দেখে পরিবারের সন্দেহ হলে বিষয়টি কালিয়াকৈর থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রাসেল আত্মগোপনে চলে যান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আজ ২০ জুলাই তাঁর সিঙ্গাপুর যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। তবে ধরা পড়ার ভয়ে এক দিন আগেই অর্থাৎ ১৯ জুলাই দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের সন্দেহ হলে তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর রাসেল গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত রাসেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (পিপিএম) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্ত্রীকে হত্যার পর আসামি অবৈধভাবে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
জেএইচআর