দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুরে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং ব্যাপক গণজমায়েতের মধ্য দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পথসভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার বিকেল পাঁচটায় শহরের ঐতিহাসিক সিও অফিস মোড় থেকে এই পদযাত্রাটি শুরু হয়।
পদযাত্রায় ছাত্র-জনতা ও নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সামনের সারিতে থেকে ব্যানার হাতে পদযাত্রার নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। এ সময় নারীদের ব্যানারে শোভা পাচ্ছিল, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি।
পদযাত্রাটি সিও অফিস মোড় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় আন্দোলনকারীরা স্বৈরাচারের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও সহ বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। পরে বিকেল পাঁচটায় শহীদ মিনার সংলগ্ন ‘জুলাই চত্বরে’ গিয়ে এটি একটি পথসভায় পরিণত হয়।
পিরোজপুর জেলা এনসিপির সদস্য সচিব ও আসন্ন পিরোজপুর পৌরসভা নির্বাচনে দলটির মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মইনুল আহসান মুন্নার সার্বিক সমন্বয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে যোগ দেন কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি উপস্থিত ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি তাঁর বক্তব্যে দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একজন আলেম কিংবা একজন ব্যবসায়ী যখন উপলব্ধি করেছিলেন যে এই সরকার টিকে থাকলে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ যখন রাস্তায় নেমে নিজের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিল, কেবল তখনই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছিল।
স্থানীয় পিরোজপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রিয় পিরোজপুরবাসী, আমরা এখানে মাইকের সামনে যতই বক্তব্য দিই না কেন, দিনশেষে পরিবর্তন হবে না যদি না আপনারা যারা সামনে আছেন বা দূর থেকে শুনছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না নিজেদের দায়িত্ববোধ নিজেদের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন, ততক্ষণ এই দেশের স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দোষ আমাদের ওপরও যায়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা একটি চাকরির জন্য মুখ বুজে, চোখ বুজে এই ফ্যাসিবাদকে নিষ্ক্রিয়ভাবে (প্যাসিভলি) মেনে নিয়েছিলাম। কেবল তখনই পরিবর্তন এসেছিল, যখন প্রত্যেকেই প্রত্যেকের জায়গা থেকে দায়িত্ব অনুযায়ী রাস্তায় নেমে এসেছিল।
সংসদে তাঁদের জোরালো ভূমিকার কথা উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অনেকেই বলেন সংসদের এই ছয় জন ইকুয়াল টু বাকি ২১৭ জন। আমাদের ছয় জনের পাঁচ মিনিটের কথার উত্তর দিতে এই সরকারের বাঘা বাঘা মন্ত্রীদের ৪৫ মিনিট সময় চলে যায়। শুরু করেছি ছয় দিয়ে, কিন্তু খুব শীঘ্রই এই সংখ্যা ১৬০-এ পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ। আর তা তখনই সম্ভব হবে, যখন মা-বাবা ও ব্যবসায়ীরা জুলাইয়ের মতো আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলেন, মনে রাখতে হবে, যে রাজনৈতিক দল আপনার খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের পরিশ্রম দিয়ে গড়ে তোলা, সেই দলই আপনার হয়ে সংসদে কথা বলবে। আর যে দল ব্যবসায়ীদের দ্বারা কিংবা বিদেশ থেকে পরিচালিত হয়, তারা জনগণের ভাষায় কখনোই কথা বলবে না।
পদযাত্রা ও পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল ইসলাম আদিব এবং ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান।
এছাড়াও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডাঃ শামীম হামিদী ও এনসিপি পিরোজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির।
সমাবেশে বক্তারা স্থানীয় পৌর এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, দুর্নীতি দূরীকরণ ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সাথে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করে পিরোজপুরকে দলটির একটি শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
পথসভা শেষে জেলা এনসিপির সদস্য সচিব মইনুল আহসান মুন্না উপস্থিত সকল গণমাধ্যমকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সফল করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
জেএইচআর