সখীপুরে বাঁশের সাঁকোতেই পারাপার দুই গ্রামের মানুষের 

আমিনুল ইসলাম, সখীপুর (টাঙ্গাইল)  প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মরিচকুঁড়ি খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সরু সাঁকোই দুই গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা। কাঁকড়াজান ইউনিয়নের মরিচকুঁড়ি এবং কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মরিচকুঁড়ি ও বাসারচালা গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে মরিচকুঁড়ি খাল। দীর্ঘদিন ধরে খালের ওপর তৈরি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করছেন দুই গ্রামের শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, কৃষক ও বয়োবৃদ্ধরা। সাঁকোটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, খারাপ আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে কৃষিনির্ভর দুই গ্রামের কৃষকরা ধানসহ বিভিন্ন সবজি বাজারজাত করতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি অসুস্থ রোগী নিয়ে যাতায়াত কিংবা জরুরি প্রয়োজনে পাশের মহানন্দপুর বাজার ঘুরে যেতে হয়। এতে অতিরিক্ত প্রায় এক ঘণ্টা সময় বেশি লাগে।

স্থানীয় বাসিন্দা হায়দার আলী বলেন, বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। ছোট শিশুদের একা স্কুলে পাঠাতেও ভয় লাগে। এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।

সাড়াশিয়া বাসারচালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, অনেক শিক্ষার্থী বাইসাইকেল নিয়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। কেউ কেউ খালে পড়ে ভিজে যাওয়া বইপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়। রোগী ও বয়স্ক মানুষের জন্য এই সাঁকো ব্যবহার করা অত্যন্ত কষ্টকর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে দুই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাঁশের সাঁকোগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব স্থানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম জি