রংপুর মহানগরের হারাগাছ থানাধীন এলাকায় এক নারীর গোপনে গোসলের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়া এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দুজনকেই পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আরপিএমপি হারাগাছ থানাধীন রংপুর সিটির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য কার্তিক গ্রামের ইয়ানুস আলীর ছেলে এমদাদুল হক (৩২) এবং একই এলাকার মজমুলের ছেলে মোকারেম ওরফে মোকা (২০)।
মামলার তদন্তকারী রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুব রহমান জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে এমদাদুল হককে আসামি করে হারাগাছ থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে এমদাদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে এমদাদুল জানান, তিনি প্রতিবেশী ভাগ্নে মোকারেম মোকার কাছ থেকে গোসলের নগ্ন ভিডিওটি পেয়েছেন। পরে অভিযান চালিয়ে মোকারেমকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মোকারেম জানান, প্রায় সাত মাস আগে ভুক্তভোগী নারী নিজ বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করছিলেন। এ সময় তিনি গোপনে গোসলের নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন। দীর্ঘদিন পর ২০ জুলাই, সোমবার বিকেলে ওই নারীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে গোসলের নগ্ন ভিডিও পাঠিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। কিন্তু ওই নারী কোনো সাড়া না দেওয়ায় সেই ভিডিও প্রতিবেশী চাচা এমদাদুলের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেন মোকারেম। পরে ২২ জুলাই দিবাগত গভীর রাতে ওই নারীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে গোসলের নগ্ন ভিডিও পাঠিয়ে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করার বার্তা পাঠান এমদাদুল।
মামলার তদন্তকারী এসআই মাহাবুব রহমান বলেন, আটক দুজনের মোবাইলে ওই নারীর গোসলের নগ্ন ভিডিও এবং হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তা পাওয়া গেছে। দুটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার দুজনকেই রংপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন আদালত কোর্ট পুলিশের ওসি আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, হারাগাছ থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা মামলার গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে রংপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নারীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচারিক আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের অপরাধী গণ্য করা যাবে না।
এএন