ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে অব্যয়িত ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৪ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও ব্যয় সাশ্রয়ের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের ১০ দশমিক ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘জলই নদী’ এবং পীরগঞ্জ ইউনিয়নের ২ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘চাপোর খাল’ পুনঃখননের জন্য সরকার প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পের আওতায় খননকাজের পাশাপাশি খালের দুই তীরে প্রায় ৮ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহনসহ সব প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পর অব্যয়িত ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৪ টাকা সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্বিক তদারকি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে কাজের মান অক্ষুণ্ন রেখে ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।
হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার সততা ও দায়িত্বশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সঠিক তদারকি থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব-এ প্রকল্প তারই প্রমাণ।
পীরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপির সভাপতি মোখলেসুর রহমান বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। কাজের মান বজায় রেখে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং অন্য উপজেলা প্রশাসনের জন্যও অনুসরণীয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হয়েছে। কাজ শেষে যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, বিধি অনুযায়ী তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এম জি