ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ভরশেখর গ্রামে স্বামী-পরিত্যক্ত ও পিতা-মাতাহীন এক আংশিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী (৪০) ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, এ ঘটনার জন্য প্রতিবেশী মেহেদী শেখ (২৭) দায়ী। অভিযোগের পর পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।
অভিযুক্ত মেহেদী শেখ ভরশেখর গ্রামের অহিদ শেখের ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার বাবলু শেখ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী তার কোনো খোঁজখবর নেন না। বিয়ের পরও তিনি মায়ের সঙ্গে মামাবাড়িতে বসবাস করতেন। মা মারা যাওয়ার পর জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করে জীবনযাপন শুরু করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রতিবেশী অহিদ শেখের বাড়িতে কাজ করার সুবাদে তার ছেলে মেহেদী শেখের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এ বিষয়ে কাউকে জানালে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর খালা জানান, গত ছয় মাস ধরে তার ভাগনি নিয়মিত মেহেদী শেখের বাড়িতে কাজ করতে যেতেন। কখনও ভোরে গিয়ে, আবার কখনও সারাদিন সেখানে কাজ করেছেন। ওই সুযোগে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর মামাও দাবি করেন, মেহেদী শেখের বাড়িতে কাজ করতে যাওয়ার সময়ই তার ভাগনির ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হয়। বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী সরাসরি মেহেদীর নাম উল্লেখ করেছেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বাবা অহিদ শেখ বলেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হোক। ছেলে দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেবেন।
তবে মেহেদী শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। তবে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিজাউল হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা ও তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তে কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে ওই নারীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মেহেদী শেখকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এম জি