এসআই রাজু মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি আরএমপির

রাকিবুল হাসান, রাজশাহী প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানায় কর্মরত এসআই রাজু মিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে আরএমপি। 

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে আরএমপির পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়।

প্রতিবাদলিপিতে আরএমপি জানায়, শিরোইল কাঁচাবাজারে অবস্থিত বিভাগীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মো. শাহীন কবির অভিযোগ করেন, কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই এসআই রাজু মিয়া তাঁকে গ্রেপ্তার করে মারধর ও তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। টাকা না দেওয়ায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা এবং তাঁর তিন লাখ টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি আত্মসাতের অভিযোগও তোলেন তিনি।

তবে আরএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। শাহীন কবির তাঁর বৈবাহিক পরিচয় গোপন রেখে এক ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং গোপনে তাঁদের ব্যক্তিগত ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন। পরে ওই ছাত্রী সম্পর্ক থেকে সরে যেতে চাইলে তিনি ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেন এবং ভিডিও মুছে ফেলার বিনিময়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তিনি ভুক্তভোগীর ভিডিও ও অশ্লীল ছবি নিজের টিকটক আইডিতে প্রকাশ করেন।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বোয়ালিয়া মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করলে এসআই রাজু মিয়া আইনানুগ প্রক্রিয়ায় শাহীন কবিরকে গ্রেপ্তার করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আলামত জব্দ করা হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও স্থিরচিত্র পাওয়া যাওয়ায় তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

আরএমপি আরও জানায়, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শাহীন কবিরের ব্যক্তিগত গাড়ি তাঁর ছেলের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) লিপিবদ্ধ রয়েছে। তদন্তে এসআই রাজু মিয়ার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি বা গাড়ি আত্মসাতের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে আরএমপি উল্লেখ করে, মামলার তদন্ত, আলামত জব্দ ও আসামি গ্রেপ্তারসহ সব কার্যক্রম প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা। এ ধরনের মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আরএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জেএইচআর