দিনের বেলাতেও লোকালয়ে শেয়ালের অবাধ বিচরণ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

রায়হান জামান, কিশোরগঞ্জ প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে লোকালয়ে শেয়ালের অবাধ বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন গ্রামে শেয়ালের হামলায় ৯ জন আহত হয়েছেন। একই দিনে বিড়ালের কামড়ে আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। শেয়াল ও বিড়ালের কামড়ে আহত ১২ জনই রোববার (২৬ জুলাই) কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শেয়ালের কামড়ে আহতদের মধ্যে সালুয়া ইউনিয়নের বাজরা মাছিমপুর গ্রামের নার্গিস আক্তার (৩৯), মেহেরা বানু (৭০) ও পেয়ারা বানু (৬৫) রয়েছেন।

এ ছাড়া ফরিদপুর ইউনিয়নের নলবাইদ গ্রামের ফারুক (৫০), আবির (৯), মোশাররফ (৩৫), দীপালী রানী (২৯), মুসানা (৩২) ও সিয়াম (২২) শেয়ালের আক্রমণের শিকার হয়েছেন।

অন্যদিকে, বিড়ালের কামড়ে আহত হয়েছেন ভাটি জগৎচর গ্রামের মুক্তা (২০), ছয়সূতি ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি গ্রামের ফারহান (৩) এবং মানিকদী গ্রামের সাকিবুল (১২)।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কুলিয়ারচরের বিভিন্ন গ্রামে লোকালয়ের মধ্যে শেয়ালের বিচরণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাতেও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় শেয়াল ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। সুযোগ পেলেই তারা মানুষকে আক্রমণ করছে। এতে শিশু, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শেয়ালের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তারা লোকালয়ে শেয়ালের বিচরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আদনান আখতার বলেন, রোববার শেয়াল ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগে দুই দিন আগে আরও ৫ জন চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তবে আক্রান্ত কারও অবস্থাই জটিল নয় এবং কাউকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠাতে হয়নি।

তিনি বলেন, শেয়াল, বিড়ালসহ যেকোনো প্রাণীর কামড়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। আক্রান্ত হলে ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে হবে। পাশাপাশি লোকালয়ে আক্রমণাত্মক বা অস্বাভাবিক আচরণ করা শেয়ালের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে সামাজিকভাবে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসিন খন্দকার বলেন, বিষয়টি উদ্বেগজনক। হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন রয়েছে। কেউ প্রাণীর কামড়ের শিকার হলে দ্রুত হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। লোকালয়ে আক্রমণাত্মক শেয়ালের বিচরণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এএন