মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার টিকিকাটা নূরিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক (বাংলা) মো. মনিরুজ্জামানকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় আপত্তিকর অবস্থায় পেয়েছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রোববার তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষক মনিরুজ্জামানের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামে। তিনি দুই সন্তানের জনক। স্ত্রী-সন্তান থাকা অবস্থায় এ অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনিরুজ্জামান ২০২৩ সালে এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে মাদ্রাসাটিতে যোগদান করেন। যোগদানের পর মাদ্রাসার পাশের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি। প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ছাত্রীর মা প্রবাসীর স্ত্রী হওয়ায় সহজেই তার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন ওই শিক্ষক। এরপর তাদের সম্পর্কের জের ধরে একই ভবনের পাশাপাশি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন তারা। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখান থেকে বাসা পরিবর্তন করে কৌশলে যোগাযোগ রাখার একপর্যায়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন তারা।

ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, তাকে খাটের নিচ থেকে বের করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারেন। শিক্ষক মনিরুজ্জামান তার প্রথম স্ত্রীর কাছে টাকা-পয়সার প্রয়োজন বলে জানান। এ সময় তার প্রথম স্ত্রী তাকে বকাবকি করেন। তবে ভিডিওতে কাউকেই বিবাহ হয়েছে বলে কোনো কথা বলতে শোনা যায়নি।

এ ব্যাপারে কাজী মো. ইয়াকুব আলী জানান, ওই শিক্ষকের সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রীর বিবাহ হয়েছে। বিবাহের ২০-২৫ দিন আগে ওই নারী তার আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছেন। থানায় গিয়ে বিবাহের কাগজপত্র দেখিয়ে এসেছি।

শিক্ষক মনিরুজ্জামান জানান, গত ৩০ জুন তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। যারা ভিডিও করেছে, তারা তার কাছে টাকা চেয়েছে। টাকা না পেয়ে ভিডিও ছেড়ে দিয়েছে।

মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর জানান, গত ১৭ জুলাই রুবেল নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় স্থানীয়রা তাকে আটক করে এবং ভিডিও ধারণ করে। কেউ কেউ ওই শিক্ষকের কাছে এক লাখ টাকাও দাবি করে। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনা পর্যন্ত তিনি বিবাহ করেছেন কি না, তা তাদের জানা ছিল না। এছাড়া এ ঘটনার দুই-তিন মাস আগে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে ওই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছিল। প্রবাসী রুবেলের বোন শাহিনুর বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানান, মনিরুজ্জামান নামে ওই শিক্ষক প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ে করার কাগজপত্র থানায় দেখাতে পেরেছেন কি না, তা তার জানা নেই।

এএন