মাছ-মাংস-ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী, নাভিশ্বাস নিম্নআয়ের মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৫, ০২:৪৪ পিএম

দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে শাক-সবজি, মাছ, মাংস ও ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছে প্রায় সবকিছুরই।

এক মাসের ব্যবধানে অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা, যা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে।

শুক্রবার রাজধানীর নিউ মার্কেট বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

গত মাসে ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে প্রতি ডজন ১৩০ টাকায়। বর্তমানে তা ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ এক মাসে ডিমের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।
কাঁচামরিচ গত মাসে ছিল ২০০ টাকা কেজি, এখন বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা দরে।

সবজি বাজারেও একই চিত্র। বর্তমানে দেশি শশা ৮০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, দেশি গাজর ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, জালি কুমড়া ৫০ টাকা এবং লাউ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক মাসে পেঁয়াজের দামও বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। গত মাসে ছিল ৬০ টাকা কেজি, বর্তমানে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং খামারের পুকুর-ঘের তলিয়ে যাওয়ায় মাছের সরবরাহ কমেছে।

বর্তমানে মাঝারি আকারের চাষের রুই ৩৫০–৪০০ টাকা কেজি, পাঙাস ২০০–২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০–২৫০ টাকা, কৈ ২৮০–৩০০ টাকা, দেশি শিং ৭০০–৮০০ টাকা, বড় পাবদা ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৭০০–৮০০ টাকা, দেশি ছোট মাছ ৭০০ টাকা এবং এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২,৫০০–২,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০–১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০–৩৫০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০–৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,১৫০–১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী শফিকুর রহমান বলেন,“সবকিছুর দাম এখন অনেক বেশি। আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে চাহিদা অনুযায়ী বাজার করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। বাচ্চাদের জন্য পছন্দের জিনিস কিনতেও পারছি না। সরকারকে অনুরোধ করব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।”

নিউ মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আলাউদ্দিন হোসেন বলেন,“গত মাসের তুলনায় সবজির দাম বেশ বেড়েছে। আমরা পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনি, পরিবহন খরচসহ সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করি। টানা বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে গেছে। শীতের মৌসুম এলে দাম আবার নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছি।”

ইএইচ