দেশজুড়ে এলপিজি ও লাইনের গ্যাস সংকটের প্রভাবে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর পূর্বাচলে চলমান ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় (ডিআইটিএফ)। মেলায় বিভিন্ন স্টলে এখন ইলেকট্রিক চুলা ও রান্নার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
মেলায় এসে রাজধানীর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজ হোসেন বলেন, আমি বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। দোকানে ঘুরেও সিলিন্ডার পাচ্ছি না, আর পেলেও দাম দ্বিগুণ চাওয়া হচ্ছে। তাই বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কিনতে মেলায় এসেছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত চার দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট চলছে। অনেক জায়গায় সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোক্তারা বিপাকে পড়েছেন। পাশাপাশি রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় লাইনের গ্যাসেও চাপ কমে গেছে। দিনের বড় একটি সময় গ্যাস না থাকায় রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মেলায় আগত ক্রেতারা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক চুলা, ইনডাকশন কুকার ও রাইস কুকারের দিকে ঝুঁকছেন। কেউ কেউ একাধিক পণ্য কিনছেন ভবিষ্যতের কথা ভেবে।
মেলায় ইলেকট্রিক পণ্য বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানান, সাধারণত বাণিজ্য মেলায় ইলেকট্রিক চুলার বিক্রি মাঝামাঝি থাকে। কিন্তু গ্যাস সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে হঠাৎ চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। প্রতিদিন আগের তুলনায় দ্বিগুণ বিক্রি হচ্ছে।
তারা বলছেন, ক্রেতারা এখন বেশি করে জানতে চাচ্ছেন বিদ্যুৎ খরচ, রান্নার সময় এবং নিরাপত্তা নিয়ে। অনেকে আগে শুধু দেখতেন, এখন সরাসরি কিনে নিচ্ছেন। ক্রেতাদের মতে, বৈদ্যুতিক চুলা এখন আর বিলাসপণ্য নয়, বরং প্রয়োজনীয় একটি বিকল্প। যদিও বিদ্যুৎ বিল বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তবুও গ্যাস সংকটে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলাই ভরসা হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক রান্না সামগ্রীর বাজার আরও বড় হবে। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ইএইচ