বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায় হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। বহুজাতিক এই ব্যাংকটি বাংলাদেশে ৮ম বারের মতো ‘সেরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান’ বা ট্রেড ফিন্যান্স ব্যাংকের স্বীকৃতি পেয়েছে।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী টানা ৯ম বারের মতো এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ৭ম বারের মতো এইচএসবিসি প্রথম স্থানটি নিজেদের দখলে রেখেছে। এই অভাবনীয় সাফল্য ব্যাংকটির উদ্ভাবনী পণ্য, উন্নত প্রযুক্তি এবং গ্রাহকসেবার প্রতি নিরলস প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
এই সম্মানজনক স্বীকৃতি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি নিবিড় ও বৈশ্বিক জরিপের ফলাফল। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী ‘ইউরোমানি’র পরিচালিত ‘ট্রেড ফিন্যান্স সার্ভে’র মাধ্যমে এই বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়।
অংশগ্রহণকারী: বিশ্বের ৯৬টি দেশের ১২ হাজার ৭০০ জন ট্রেড ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ এবং করপোরেট ট্রেজারার এই জরিপে তাদের বহুমূল্য মতামত প্রদান করেছেন।
বাজার দখল: এবারের জরিপে এইচএসবিসি মোট ১৮টি আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যে ১৬টিতেই শীর্ষস্থান অধিকার করে নিজেদের বৈশ্বিক সক্ষমতার জানান দিয়েছে।
এই গৌরবের বিষয়ে এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের জটিল ও পরিবর্তনশীল বাণিজ্যিক প্রেক্ষাপটে গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের. এটি কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং আমাদের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং গ্রাহকদের জটিল বাণিজ্যিক সমস্যা সমাধানে আমাদের পারদর্শিতারই বড় স্বীকৃতি। আমরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় আমাদের গ্রাহকদের পছন্দের অংশীদার হতে পেরে সত্যিই অভিভূত।’
একই সুরে এইচএসবিসি বাংলাদেশের গ্লোবাল ট্রেড সলিউশনসের প্রধান আহমদ রাবিউল হাসান গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘গ্রাহকদের অব্যাহত সমর্থন ও অংশীদারিত্ব ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব ছিল না. আমরা উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সমাধানে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখব যাতে আমাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।’
১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে এইচএসবিসি এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম সঙ্গী হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘ সময় ধরে রিটেইল, করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং পরিচালনা করলেও সম্প্রতি ব্যাংকটি তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
ব্যাংকটি সম্প্রতি তাদের ব্যক্তিগত বা রিটেইল ব্যাংকিং সেবা এ দেশ থেকে গুটিয়ে নিয়েছে।
বর্তমানে এইচএসবিসি বাংলাদেশ মূলত বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং খাতের ওপর পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। এই বিশেষায়িত সেবাই তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অর্থায়নে শীর্ষস্থানে ধরে রাখতে সহায়তা করছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জটিল নিয়মকানুন, গ্যারান্টি এবং লেটার অফ ক্রেডিট (LC) ব্যবস্থাপনায় এইচএসবিসির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক অনন্য সুবিধা প্রদান করে। বাংলাদেশি রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের জন্য এই ব্যাংকটি একটি বিশ্বস্ত সেতু হিসেবে কাজ করছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখাটা অর্জনের চেয়েও কঠিন। এইচএসবিসি বাংলাদেশ গত এক দশক ধরে সেই কঠিন কাজটিই সহজভাবে করে দেখাচ্ছে। বর্তমান সরকারের স্মার্ট ইকোনমি গড়ার লক্ষ্যে বিদেশি ব্যাংকিং খাতের এই সাফল্য দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। গ্রাহক আস্থার এই ধারাবাহিকতা আগামীর চ্যালেঞ্জিং বিশ্ব অর্থনীতিতে এইচএসবিসিকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এমনই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
এএন