বাজারে সবজির দাম চড়া, সরবরাহ সংকটে মুরগির দরেও অস্থিরতা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

ঈদের ছুটির রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বাড়তি চাহিদা ও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে প্রায় সব ধরনের সবজি ও মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর ও রামপুরাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকদিন আগে যে বেগুন, শিম ও পটল ৬০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় ঠেকেছে। গ্রীষ্মকালীন সবজি ঢেঁড়স ও বরবটির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া করলা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গার মতো সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, ঢাকার বাইরে থেকে আসা ট্রাকের সংখ্যা কম হওয়ায় এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

অন্যদিকে, পোল্ট্রি বাজারে সোনালি ও দেশি মুরগির দাম আকাশচুম্বী। সরবরাহ সংকটের কারণে সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সামান্য স্বস্তি দিচ্ছে ব্রয়লার মুরগি, যা ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে। খামারিদের দাবি, মুরগির ফিড বা খাদ্যের উচ্চমূল্য ও প্রচণ্ড গরমের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে।

মাছের বাজারেও কিছুটা বাড়তি উত্তাপ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। সাধারণ ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, সিন্ডিকেট আর মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে দফায় দফায় দাম বাড়ছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে দ্রব্যমূল্যের এমন লাগামহীন বৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। সাধারণ মানুষ বাজারে অস্বাভাবিক এই দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত ও কঠোর বাজার তদারকির জোর দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে দাম কমার সম্ভাবনা আপাতত কম।

জেএইচআর