পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ঢাকাসহ সারাদেশে বেড়েছে ইলিশ মাছের দাম। দেশের বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহিপুরের পাইকারি ও খুচরা বাজারে সীমিত পরিসরে ছোট ও মাঝারি সাইজের ইলিশের দেখা মিললেও বড় সাইজের ইলিশ অনেকটা দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। পাইকারি বাজারে এক কেজি সাইজের ইলিশের মন বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দরে। ৭০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা।
সোমবার মৎস্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুরের পাইকারি বাজারে এই দামে মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
ইলিশের এমন অস্বাভাবিক দামের কারণ হিসেবে মৎস্য সংশ্লিষ্টরা বলেন, তেল সংকটে পর্যাপ্ত ফিসিং করতে না পারা, ১৫ এপ্রিল থেকে দীর্ঘ ৫৮ দিনের অবরোধ, বাজারে চাহিদার চেয়ে ইলিশের অপ্রতুলতা এবং পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে।
পাইকারি দামের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। শহরের নিউ মার্কেটের মাছ বাজারসহ জেলার সব বাজারে আকাশচুম্বী দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ থেকে ৪০০০ হাজার টাকা দরে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। দুষ্প্রাপ্ততার কারণে বিগত বছরগুলোর সব রেকর্ড ভেঙে সবেচেয়ে বেশি দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা। তাই ইলিশের বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
কলাপাড়ার মাছ বাজারে ইলিশ কিনতে আসা সাইদুর রহমান বলেন, পহেলা বৈশাখের পরের দিন বাড়িতে মেয়ে জামাইয়ের স্বজনরা বেড়াতে আসবেন। তাই ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। বাজারে ১ কেজি ওজনের একটি মাছও পাইনি। হাতে গোনা দুই থেকে তিনজন মাছ বিক্রেতার কাছে ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের কিছু ইলিশ থাকলেও দাম অনেক চড়া। ২০০০ টাকা করে চাচ্ছে। এতো দামে ইলিশে ক্রয়ের ক্ষমতা আসলে আমাদের নেই।
একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার, মলিবাগ কাঁচাবাজারে। রাজধানীর বাজারগুলোতে ভালো মানের ইলিশের দাম কেজিতে তোলা হয়েছে ৪ হাজার টাকায়। খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার খুচরা পর্যায়ে আকারভেদে পদ্মার এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি বিক্রি হয় ৩৮০০-৪০০০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগেও ৩২০০-৩৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া এক কেজি বা তার কিছু কম ওজনের প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হয় ৩২০০-৩৫০০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগেও ৩০০ টাকা কম ছিল। পাশাপাশি ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০০০-৩২০০ টাকায়।
এছাড়া বাজারে চাঁদপুর ও বরিশালের এক কেজি ওজনের বেশি ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০০-৩৫০০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগেও ৩০০০-৩২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি ২৭০০-৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০০-২৫০০ টাকায়। তবে গত বছরের কোল্ডস্টোরেজে রাখা ইলিশের দাম তুলনামূলক কিছুটা কম। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০০-২৮০০ টাকায়। গত বছর এই সময়ে আকারভেদে প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছিল ২৭০০-৩০০০ টাকায়।
শ্যামলীর কাঁচাবাজারে ইলিশ কিনতে আসা আসাদ বলেন, পহেলা বৈশাখে ঘরে একটু ইলিশ রান্না করা হয়। তাই ছেলে-মেয়েদের জন্য ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। তবে দাম শুনে আর কিনতে পারছি না। তিনি জানান, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। মাস শেষে ভালো টাকা বেতন পাই। এরপরও এবার ইলিশ কেনার সাহস হচ্ছে না।
এদিকে ইলিশের সঙ্গে সব ধরনের মাছও বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে ২০০ টাকা কেজির নিচে মিলছে না কোনো মাছ। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার প্রতি কেজি পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে এসেছেন মো. সহিদুল ইসলাম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, পণ্যের বাজারে অস্থিরতা চলছে। রোজায়ও মাছের দাম এত ছিল না। ঈদের পর সব কিছুর দাম হু হু করো বাড়ানো হচ্ছে। পরিবারের জন্য এদিন একটু মাছ-মাংস জোগার করতাম। কিন্তু বাজারে যে দাম কেনা সম্ভব নয়।
এম জি