বাজারে সবকিছুর দামে আগুন, নাজেহাল নিম্ন আয়ের মানুষ

শাহিনুর রহমান, ঢাকা প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
ছবি: আমার সংবাদ

রাজধানীর বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডিমের দাম। মাত্র একদিনের ব্যবধানে প্রতি ডজন ফার্মের লাল ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টাকা। বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে ডজনপ্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকান ঘুরে দেখা যায়, ডিমের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সোমবার থেকে দাম বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত।

যাত্রাবাড়ী বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকায়। দুপুরের দিকে একই ডজন ডিমের দাম দাঁড়ায় ১৬০ টাকায়।

একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে কুড়িল বাজারেও। কয়েকজন ক্রেতা জানান, একদিন আগেও যে ডিম ১৩৫ টাকায় পাওয়া গেছে, সেটিই এখন কিনতে হচ্ছে অনেক বেশি দামে।

কুড়িল বাজারের ক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, “একদিনের ব্যবধানে ডিমের দাম ২০-২৫ টাকা বেড়ে গেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য বাজার করা এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। বাজার তদারকি বাড়ানো দরকার।”

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে ডিমের কোনো ঘাটতি না থাকলেও অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী বাজারে কেনাকাটা করতে আসা পাপন সিকদার বলেন, নিত্যপণ্যের দাম এমনিতেই বেশি, তার ওপর ডিমের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণেই খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

জুরাইন বাজারের বিক্রেতা বাশার মিয়া জানান, সরবরাহ পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়েছে। তা ছাড়াও আমাদের পাইকারি কিনতে হচ্ছে বেশি দামে।

জুরাইন বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, “প্রতিদিনই বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ডিম, সবজি, মাছ- কোনোটাই আগের দামে পাওয়া যাচ্ছে না। সংসার চালাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

শুধু ডিম নয়, মুরগি ও মাছের বাজারেও বেড়েছে দাম। খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকায়। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকার আশপাশে।

কাঁচাবাজারেও মিলছে না ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি। আলুর কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা, পুঁইশাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মাঝারি লাউ দাঁড়িয়েছে ৬০-৭০ টাকায়।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৯৫ টাকা। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেলের নতুন দাম প্রতি লিটার ১৭৯ টাকা (আগে ১৭৫ টাকা ছিল)।

যায়গাভেদে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। তবে পাম অয়েলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। বাজারে পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকায়। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, রুই ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা, কাতল ৪০০ টাকা এবং পাবদা মাছ প্রায় ৪২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

টেংরা মাছের দাম কেজিপ্রতি ৮৫০ টাকার কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে মাঝারি আকারের ইলিশের দাম এখনও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা। বাজারে কার্যকর নজরদারি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

এএন