বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। টানা দরপতনের ফলে মূল্যবান এই ধাতুর দাম এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সাপ্তাহিক হিসাবেও ক্ষতির মুখে রয়েছে স্বর্ণবাজার। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে, যা দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
শুক্রবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬১৯ দশমিক ৪৯ ডলারে। সপ্তাহজুড়ে মোট দরপতন হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে জুন ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬২৫ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করেছে। ডলারের মান ১ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বাড়ছে। এর প্রভাবে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে বাজারের নজর রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং–এর বৈঠকের দিকে। দুই নেতার আলোচনায় বাণিজ্য, কূটনীতি এবং তাইওয়ান ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে। সফর চলাকালে শি জিনপিং সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্ন সঠিকভাবে মোকাবিলা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে।
এদিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক–এর প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে আপাতত সুদের হার পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছেন না তারা। অর্থাৎ উচ্চ সুদের পরিবেশ আরও দীর্ঘ হতে পারে—এমন ইঙ্গিতই পাচ্ছে বাজার।
ভারতও স্বর্ণ আমদানিতে নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্রিম অনুমোদন প্রকল্পের আওতায় এখন থেকে সর্বোচ্চ ১০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ আমদানির সুযোগ থাকবে। যদিও রফতানিকারকদের জন্য কিছু বিশেষ ছাড় বহাল রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সূচকগুলোও বাজারে মিশ্র সংকেত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার আবেদন সামান্য বাড়লেও শ্রমবাজার এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে এপ্রিল মাসে টানা তৃতীয়বারের মতো দেশটির খুচরা বিক্রি বেড়েছে, যদিও এর পেছনে মূল্যস্ফীতিরও প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮২ দশমিক ৮ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও সামান্য পতন হয়েছে।
এএন