আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মূল্যবান এই ধাতুর দর নিম্নমুখী রয়েছে। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ও বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে-এমন প্রত্যাশাই মূলত স্বর্ণবাজারে চাপ তৈরি করেছে।
শুক্রবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫২৮ ডলার ৪৬ সেন্টে। চলতি সপ্তাহজুড়েও সোনার দামে প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ পতন হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জুন মাসের সরবরাহ চুক্তিভিত্তিক সোনার দামও একই হারে কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫২৯ ডলার ১০ সেন্টে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক তেলবাজারের অস্থিরতা এবং মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে স্বর্ণ তার স্বাভাবিক আকর্ষণ হারাচ্ছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করলেও সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা কমে যায়।
বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকায় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এখনও ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন জানিয়েছেন, তেলের দাম, ডলারের মান এবং বন্ডের মুনাফার ওপর এখন স্বর্ণের বাজার অনেকটাই নির্ভরশীল। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্বর্ণবাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য বলছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৬ সালের শেষ দিকে অন্তত ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়াতে পারে-এমন সম্ভাবনা এখন ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এর প্রভাবে ডলারের সূচকও গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। ফলে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা কেনার খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৭৬ ডলার ১০ সেন্টে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৩৬ ডলার ৪৪ সেন্টে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৩৭২ ডলার ১২ সেন্ট। সাপ্তাহিক হিসাবে এসব ধাতুও লোকসানে রয়েছে।
এম জি