স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চিকিৎসা অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৩৪ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা এবং ওই অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ২০ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা বেশি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জন্য ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বিভাগের বরাদ্দ ছিল ২১ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা, আর মূল বাজেটে ছিল ১৪ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। নতুন প্রস্তাবিত বরাদ্দের মধ্যে উন্নয়ন খাতে রাখা হয়েছে ২৬ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য ১৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বিভাগের বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ১২১ কোটি টাকা এবং মূল বাজেটে ছিল ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। এ বিভাগের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জন্য ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে প্রকৃত ব্যয় হয়েছিল ২ হাজার ১ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে এডিপি বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ১১৮ কোটি টাকায়।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এডিপি বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে প্রকৃত ব্যয় ছিল ৪১২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে ৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকায় নেমে আসে। দুই বিভাগের সম্মিলিত এডিপি বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা।

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ- উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

এএন