সবজিতে স্বস্তি, বেড়েছে ডিম-মাছের দাম

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

রাজধানীতে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি হলেও কাঁচাবাজারে সবজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বরং অধিকাংশ সবজির দাম আগের মতোই স্থিতিশীল থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতারা। তবে ডিম, মাছ ও কিছু প্রাণিজ আমিষের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারের সামগ্রিক ব্যয় এখনও বেশি বলে মনে করছেন তারা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে ক্রেতার উপস্থিতি কিছুটা কমলেও পাইকারি বাজার থেকে নিয়মিত পণ্য আসায় সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে দামে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি।

বর্তমানে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৩০ টাকা, উচ্ছে ৪০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, কুমড়া ৪০ টাকা, আলু ৩০ টাকা এবং পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের মধ্যে সাদা জাত ৬০ টাকা ও কালো জাত ৭০ টাকা কেজি। এছাড়া শসা ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, লতি ৬০ টাকা এবং মুলা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাকলা প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং লাউ প্রতিটি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। শাপলা ফুলের এক মুঠো ২০ থেকে ৩০ টাকা, কলমির শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং লাল শাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে কাঁচামরিচের দাম এখনও বেশি। প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম রয়েছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা।

সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও প্রাণিজ আমিষের বাজারে সেই চিত্র নেই। গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে সাদা ফার্মের ডিম ১২০ টাকা এবং ব্রাউন ডিম ১৩০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। কিছু বাজারে লেয়ার ডিমের দাম আরও বেশি, ডজনপ্রতি ৩৬০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, আবার কোথাও ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগির কেজি ৩৩০ টাকা। দেশি মুরগির দাম আরও বেশি।

মাংসের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও বেশিরভাগ প্রজাতির দাম চড়া রয়েছে। মানভেদে চিংড়ি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৩๐ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কৈ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শাওন গাজী বলেন, টানা বৃষ্টি হলেও পাইকারি বাজার থেকে সবজি নিয়মিত আসছে। তাই সরবরাহে সমস্যা হয়নি এবং দামও মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

রায়ের বাজারের মাছ বিক্রেতা তরিকুল বলেন, কয়েক মাস ধরেই মাছের বাজার প্রায় একই রকম। বড় আকারের মাছের দাম সব সময় কিছুটা বেশি থাকে। তবে ইলিশের বর্তমান দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য অনেক বেশি।

ডিম বিক্রেতা আবু দাউদ জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে সাদা ব্রয়লার ডিম ১২০ টাকা এবং ব্রাউন ডিম ১৩০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের ভাষ্য, সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ডিম, মাছ ও মুরগির উচ্চমূল্যের কারণে মাসিক বাজারের খরচ এখনও কমছে না। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আংশিক স্বস্তি ফিরলেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না।

এম জি