ঢাবিতে শেখ কামাল-সুলতানা কামাল ট্রাস্ট ফান্ড গঠিত

ঢাবি প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৩, ০২:২৮ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে শেখ কামাল-সুলতানা কামাল ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তন সকাল ১১টায় এই ট্রাস্ট ফান্ডের  সূচনা করেন ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান। এসময় শেখ কামাল ও সুলতানা কামালের পরিবারের পক্ষে শেখ কবির হোসেন ও গোলাম আহমেদ টিটো উপাচার্যের নিকট ৪০ লাখ টাকার একটি চেক হস্তান্তর করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিকভাবে সাহায্য করার লক্ষ্য নিয়েই এই ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়। বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে এই ফান্ড পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে একটি দায়বদ্ধতা থেকে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করার মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শেখ কামালের মেধা ও তার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি দিচ্ছে। যার উদ্দেশ্য শুধু বৃত্তি প্রদান করাই নয় বরং তাদের জীবনের মূল্যবোধগুলোও তুলে শেখ কামালই প্রথম শিক্ষার্থী, যিনি মেধাবীদের জন্য একটা সংঘ তৈরি করেছিলেন, যেখানে প্রত্যেক বিভাগের মেধাতালিকার প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার কারীদের অন্তর্ভুক্তি ছিলো।

তিনি আরও বলেন, তিনি দল মত নির্বিশেষে এই মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করেছেন। আজকের এই ট্রাস্ট ফান্ড সেই মূল্যবোধকে ধারণ করবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা দুটো বিষয়কে বিবেচনায় রেখেছি। প্রথমটি হলো- ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ভালো করা শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা প্রদান। দ্বিতীয়টি হলো- মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের এই ফান্ড থেকে সুবিধা দেয়া।

শেখ পরিবারের জৈষ্ঠ্য সদস্য ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, আমি লালিত পালিত হয়েছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কাছে। তাকে ‍‍`বুজি‍‍` বলে ডাকতাম। শেখ কামাল আমাকে সবসময় চাচা বলে ডাকতেন। খুব হাসিখুশি ছিলেন, বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ করতেন। বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা সবই করতেন তিনি। এতো বিনয়ী ছিলেন, তার আগ দিয়ে কেউ কখনো সালাম দিতে পারতো না।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্র  ছিলেন। একই অনুষদের ছাত্রী বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামালের সাথে ১৯৭৫ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যান্য পরিবারের সাথে তাদেরও হত্যা করা হয়।

অধ্যাপক জিয়া রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সুলতানা কামালের ছোট ভাই গোলাম আহমেদ টিটু, শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিজামুল হক ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদা, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন মিহির লাল সাহা বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকগণ ও ছাত্র-ছাত্রীরা।

কেএস