নির্বাচনী সচেতনতা-উৎসব: ২৫ কোটি টাকার কর্মসূচি হাতে নিল সরকার

বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৮:৪৮ পিএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সরকার ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী পরিবেশকে উৎসবমুখর করতে ২৫ কোটি টাকার একটি ব্যাপক প্রচারণা কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। দেশব্যাপী ৬৪টি জেলা ও ৩০০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, মূলত জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে টিভিসি, ভিডিও ডকুমেন্টারি এবং তথ্যচিত্র তৈরি করে এলইডি অ্যাক্টিভেশন কারাভ্যানের মাধ্যমে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে। কর্মসূচি চলাকালীন এলইডি কারাভ্যানগুলো শহর, উপজেলা ও ইউনিয়নগুলোতে ঘুরে ভিডিও এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শন করবে, যাতে ভোটাররা নির্বাচনকে একটি উৎসবমুখর, উন্মুক্ত ও জ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়া হিসেবে উপলব্ধি করতে পারে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, এবং উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। বৈঠকে আলোচনা হয় কিভাবে সময় ও সংস্থান সীমাবদ্ধতার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রভাবশালী প্রচারণা নিশ্চিত করা যায়।

সরকারি সূত্র জানায়, এই প্রকল্পটি নভেম্বরেই শুরু করার নির্দেশনা থাকায় প্রচলিত উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। সময় সংকট এবং নির্বাচনের গুরুত্ব বিবেচনায় এনে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনের অধীনে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিপিআর) অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অবলম্বন করে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড সলিউশন লিমিটেডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি প্রস্তুত করে উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করলে, পর্যালোচনার পর তা নীতিগত অনুমোদন লাভ করে।

প্রচারণার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগ কেবল নির্বাচনী সচেতনতা বাড়ানোর জন্যই নয়, বরং এটি দেশের ৬৪ জেলার ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনের গুরুত্ব বোঝাতে এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এ জন্য প্রত্যেক জেলা ও উপজেলার নির্বাচনী কেন্দ্রে এলইডি কারাভ্যান চালু করা হবে, যেখানে শিক্ষামূলক ভিডিও, তথ্যচিত্র এবং ভোটারদের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধিকর কর্মসূচি প্রদর্শন করা হবে।

এছাড়া মন্ত্রণালয় জানায়, প্রচারণার অংশ হিসেবে ভোটারদের জন্য সংক্ষিপ্ত ভিডিও ডকুমেন্টারি, টিভিসি এবং লিফলেট তৈরি করা হবে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও উৎসাহমূলক করবে। ভিডিও ও তথ্যচিত্রগুলোতে ভোটারদের অধিকার, ভোটপ্রক্রিয়া, সঠিক তথ্য ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। এলইডি কারাভ্যানের মাধ্যমে এই ভিডিওগুলো সরাসরি জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

উল্লেখযোগ্য যে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার সিদ্ধান্তের পেছনে সময়ের সংকট এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অন্যতম কারণ। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বৈঠকে এই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রচারণা কার্যক্রমটি কেবল ভোটার সচেতনতা বাড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি নির্বাচনী পরিবেশকে উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এছাড়া এই কর্মসূচি নির্বাচনী অঙ্গনে নানান সমস্যার সমাধান ও প্রান্তিক এলাকায় ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সরকারের লক্ষ্য, এই প্রচারণার মাধ্যমে ভোটাররা নির্বাচনের গুরুত্ব ও দায়িত্ব সচেতনভাবে উপলব্ধি করবে, এবং একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রচারণা কার্যক্রম চলাকালীন নিয়মিত মনিটরিং ও মূল্যায়ন করা হবে, যাতে প্রতিটি জেলা ও উপজেলার জনগণ এ কার্যক্রম থেকে সর্বোচ্চ সুফল পায়।

এভাবে, দেশের ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলায় ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি চালু করার মাধ্যমে সরকার নির্বাচনী পরিবেশকে উন্নত ও অংশগ্রহণমূলক করার চেষ্টা করছে। আগামী নির্বাচনের জন্য এটি এক কার্যকর প্রচারণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জেএইচআর