আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন আয়োজনে সকল প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হলেও তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আক্তার আহমেদ।
শনিবার বিকেলে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান।
সচিব বলেন, "নির্বাচন আয়োজনে আমরা শতভাগ প্রস্তুত। তবে তফসিল কবে ঘোষণা হবে, সে বিষয়ে এখনো কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।"
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই ঘোষিত সময়সীমাকে ধরে ইসির পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম ভাগে তফসিল ঘোষণার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, তবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সচিবের ভাষায়, "আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল দিতে, কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখনো এ বিষয়ে সমঝে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।"
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছিলেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তবে সচিব আক্তার আহমেদ জানান, কমিশনে আলোচনাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।
ইসি সচিব সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে অনেক ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি অনাস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আমি সকলকে অনুরোধ করছি—নির্বাচন নিয়ে সঠিক, যাচাই করা তথ্য প্রচার করুন।
তিনি আরও বলেন, "নিশ্চিন্ত থাকুন, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি পূর্ণ মাত্রায় চলছে। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব দপ্তর প্রস্তুত রয়েছে।"
ইসির সচিব আক্তার আহমেদ বক্তব্য রাখেন ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (সর্বশেষ সংশোধনী), সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক আচরণবিধি ২০০৮, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন ১৯৯১’ শিরোনামের কর্মশালায়। কর্মশালাটি আয়োজন করে ইউএনডিপি এবং রিপোর্টার্স ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি।
তিনি জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ বিভিন্ন আইন সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা হয়েছে এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। "আইন, বিধি ও আচরণবিধি সঠিকভাবে না জানলে নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব নয়", উল্লেখ করেন সচিব।
কর্মশালার সকালে পৃথক অধিবেশনে নির্বাচন কমিশনার আবদুল রহমানেল মাঈসুদ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তিনি সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, নির্বাচনী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনের প্রয়োগ (সিআরপিসি, এভিডেন্স অ্যাক্ট), এবং নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তি ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন।
কমিশনার বলেন, "নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসি সে দিক থেকে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। আইন প্রয়োগে ছাড় দেওয়া হবে না।"
ইসি সচিব জানান, ভোটার তালিকা, কেন্দ্র তালিকা, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়োগ, নির্বাচন সামগ্রী প্রিন্টিংসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। তার ভাষায়, "প্রক্রিয়াগত কোনো ঘাটতি নেই। নির্বাচনের দিন-তারিখ নির্ধারণ হলেই নির্বাচন কমিশন পুরো ক্ষমতায় মাঠে নেমে যাবে।" তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ সব ক্ষেত্রেই অগ্রগতি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা আসার পর থেকেই তফসিল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আগ্রহ বাড়ে। শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলোর নেতারা দ্রুত তফসিল ঘোষণা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। ইসি সচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ইসি বিবেচনা করে। তবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী যথাসময়ে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
সচিব পুনরায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচন নিয়ে অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। সঠিক তথ্য না ছড়ালে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—আপনারা সঠিক তথ্য প্রচার করলে নির্বাচন প্রক্রিয়া শক্তিশালী হয়।
ইএইচ