বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পথচলায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বরাবরই একটি বড় আকাঙ্ক্ষার বিষয় ছিল। সেই লক্ষ্য পূরণে নির্বাচন কমিশন ‘বিদেশের বাইরে ভোটদান পদ্ধতি ও বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে।
বিতরণের পরিসংখ্যান ও দেশভিত্তিক অবস্থান সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন বিশ্বের ১০৪টি দেশে মোট ৭ লাখ ২৮ হাজার ২৩ জন প্রবাসী ভোটারের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ পাঠানো হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে, যেখানে বাংলাদেশি জনশক্তির আধিক্য সবচেয়ে বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী সৌদি আরবে বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি ২ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৩ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় ৮৩ হাজার ৮২৭ জন, কাতারে ৭৪ হাজার এবং ওমানে গত বুধবারের সর্বশেষ চালানে ১০ হাজার ২০০ জন প্রবাসীকে ব্যালট পাঠানো হয়েছে।
ডিজিটাল নিবন্ধন ও পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ নির্বাচন কমিশন এবার ভোটদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছে। ইসি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য মতে, ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন।
এই বিশাল সংখ্যার ভোটারদের মধ্যে একটি ভারসাম্য লক্ষ্য করা গেছে, যার মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন এবং অভ্যন্তরীণ ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন, যারা কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকায় থাকতে পারবেন না।
গোপনীয়তা রক্ষায় ইসির কঠোর হুঁশিয়ারি প্রকল্পের দলনেতা সালীম আহমাদ খান জানিয়েছেন, বাকি নিবন্ধিত প্রবাসীদের কাছেও পর্যায়ক্রমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে তিনি একটি বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। আইনি সতর্কতায় জানানো হয়েছে, যদি কোনো ভোটার তাঁর ব্যালটের গোপনীয়তা ভঙ্গ করেন বা নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক করে দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, নিজের ভোট কাকে দিচ্ছেন তা প্রকাশ করা বা ব্যালটের ছবি তোলা আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব এবারের নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল তারা যেন দেশের বাইরে থেকেও জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। পোস্টাল ব্যালট প্রেরণের মাধ্যমে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে যেমন অবদান রাখেন, তেমনি রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের এই অংশগ্রহণ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও অংশগ্রহণমূলক চরিত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা ১০৪টি দেশে ব্যালট পাঠানো এবং তা সংগ্রহ করার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। সময়মতো ব্যালট ফেরত আসা এবং তা গণনা প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। তবে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের ব্যবহার এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে অনেকটা স্বচ্ছ ও গতিশীল করেছে।
প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানোর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি শুধুমাত্র একটি ভোটদান প্রক্রিয়া নয়, বরং প্রবাসীদের নাগরিক অধিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
আগামী দিনগুলোতে এই ব্যালটগুলো সঠিক সময়ে এবং সুরক্ষিতভাবে ইসির কাছে ফিরে আসবে, এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
জেএইচআর