প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার লড়াই: আজ থেকে ইসিতে শুরু হচ্ছে আপিল শুনানি

বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজছে দেশজুড়ে। তবে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে অনেক প্রার্থীর ভাগ্য এখন ঝুলছে নির্বাচন কমিশনের অডিটোরিয়ামে। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের দায়ের করা ৬৪৫টি আপিল আবেদনের ওপর আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে শুনানি শুরু হচ্ছে।

শুনানির সময়সূচি ও পদ্ধতি

ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব আবেদন নিষ্পত্তি করবেন। প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

শুনানির দিনক্ষণ এক নজরে:

১০ জানুয়ারি (শনিবার): ০১ থেকে ৭০ পর্যন্ত 
১১ জানুয়ারি (রবিবার): ৭১ থেকে ১৪০ পর্যন্ত 
১২ জানুয়ারি (সোমবার): ১৪১ থেকে ২১০ পর্যন্ত
১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার): ২১১ থেকে ২৮০ পর্যন্ত

বাকি আপিলগুলোর শুনানির সময়সূচি পর্যায়ক্রমে কমিশন থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

কেন বাতিল হলো এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থী?

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার মোট ৬৪৫ জন প্রার্থী আপিল করেছেন, যার মধ্যে সিংহভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থী। মূলত নিচের কারণগুলোতে প্রার্থীদের আবেদন বাতিল করা হয়েছিল:

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থন: ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সূচক তালিকায় স্বাক্ষরের গড়মিল বা ভুয়া তথ্য।
ঋণখেলাপি: বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ না করা।
ভুল তথ্য: হলফনামায় তথ্য গোপন বা মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না থাকা।
অন্যান্য: বিদ্যুৎ বা টেলিফোন বিল বকেয়া এবং অসম্পূর্ণ নথিপত্র।

শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ

গতকাল শুক্রবার ছিল আপিল আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন। সকাল থেকেই ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ছিল উৎসবমুখর কিন্তু উৎকণ্ঠার পরিবেশ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রার্থীরা তাদের আইনজীবীদের নিয়ে হাজির হয়েছিলেন আপিল ফরম জমা দিতে। অনেকের হাতেই ছিল নথিপত্রের বিশাল ফাইল, যার মাধ্যমে তারা প্রমাণ করতে চান যে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।

আগামী দিনের নির্বাচনী ক্যালেন্ডার

আপিল শুনানি শেষ হওয়ার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হবে। কমিশনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী:

২০ জানুয়ারি: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়।
২১ জানুয়ারি: প্রার্থীদের মাঝে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ।
২২ জানুয়ারি: আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।
১২ ফেব্রুয়ারি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

কমিশনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা

আপিল শুনানি উপলক্ষে নির্বাচন ভবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রার্থীদের সাথে সীমিত সংখ্যক ব্যক্তি বা আইনজীবীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো শুনানি প্রক্রিয়া নথিবদ্ধ করা হচ্ছে।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আপিল শুনানিতে এবার অনেক হেভিওয়েট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে পারেন, যা নির্বাচনের প্রতিযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। বিশেষ করে যাদের ১ শতাংশ স্বাক্ষরের কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে কমিশন কতটা নমনীয় হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।

এএন