সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্বাচনী দৌড়ে ফিরেছেন ডা. তাসনিম জারা। ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া তার মনোনয়নপত্রটি প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল করা হলেও নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে তিনি তা ফিরে পেয়েছেন। শনিবার দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে কমিশন তার প্রার্থিতাকে আইনত বৈধ বলে রায় প্রদান করে।
মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাসনিম জারা। স্বস্তির হাসি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে আমাদের আপিল মঞ্জুর হয়েছে। ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমার মনোনয়ন এখন বৈধ।
বিগত এক সপ্তাহের টানটান উত্তেজনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, গত সাতটি দিন আমার জন্য একেবারেই অন্যরকম ছিল। দেশে ও প্রবাসে থাকা অগণিত মানুষ আমাকে শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন। রাস্তায় যখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, তখন তাদের চোখে হতাশা দেখেছি। তারা আমার প্রার্থিতা বাতিলের খবরে কষ্ট পেয়েছিলেন। আজ এই জয় তাদের সবার। এ সময় তিনি তার লড়াইয়ে পাশে থাকা সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনী প্রতীক প্রসঙ্গে তাসনিম জারা জানান, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে 'ফুটবল' মার্কার জন্য আবেদন করবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার তিনি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, জনগণের দেওয়া প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা তিনি নির্বাচনী ব্যয়ে ব্যবহার করবেন।
তাসনিম জারা আগে এনসিপির (ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠন নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে তিনি পদত্যাগ করেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
৩ জানুয়ারি তার মনোনয়ন বাতিল করেন ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন। বাতিলের কারণ হিসেবে জানানো হয়েছিল, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় কিছু ত্রুটি ছিল। মোট ৪ হাজার ৩০০ জনের স্বাক্ষরের প্রয়োজন থাকলেও যাচাইকালে দেখা যায়, তার প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে নাম দেওয়া ১০ জনের মধ্যে ২ জন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার ছিলেন না। এই কারিগরি ত্রুটির কারণেই প্রাথমিক পর্যায়ে তার মনোনয়নপত্র নাকচ করা হয়েছিল।
তাসনিম জারার আপিলটি ছিল শনিবারের শুনানির শুরুর দিকের তালিকায়। ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিল নিষ্পত্তির দিনে তিনি তার প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, গত ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে শেষ দিনেই আবেদন জমা পড়েছিল ১৭৬টি।
টানা ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শুনানি চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ এই শুনানি পরিচালনা করছে।
এএন