আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে দুইটিতে বিএনপি, বাকি দুইটি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে মনে করেন তারা।
নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রগঠনে জনগণ পরিবর্তন চাইছে, তাই জয়ের জন্য আশাবাদী তারা। তবে বিএনপি আমলের উন্নয়ন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের কারণে জেলার সব আসনই নিজেদের দখলে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস বিএনপির।
অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অর্থাৎ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা মনে করছেন, জনগণ এবার তাদেরকেই জয়যুক্ত করবেন বলে আশা করছেন।
কক্সবাজার-১: চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী তিনবার ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ একবার সংসদ সদস্য ছিলেন। সব মিলিয়ে ’৯১-পরবর্তী বিএনপির দখলে ছিল এই আসনটি চারবার। সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনটিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হাসিনা আহমদ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদকে পরাজিত করে তিনি এমপি নির্বাচিত হন।
এই আসনটিতে এবার বিএনপির প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমদ, যিনি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ একজন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং ওই আসনের বারবার নির্বাচিত সালাউদ্দিন আহমদের বিপরীতে আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক। তিনি ভোটের মাঠে নবীন। আবদুল্লাহ আল ফারুকের এটিই প্রথম কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং তাও সংসদ সদস্য প্রার্থী।
ফলে বিএনপির অভিজ্ঞ সালাউদ্দিন আহমদের সামনে জামায়াত প্রার্থী কতটুকু লড়াই করবেন, এটাই এখন ওই আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
তবে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতবেন বলে মনে করছেন এ আসনের সাধারণ ভোটাররা।
এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সরওয়ার আলম প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
কক্সবাজার-২: মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দ্বীপ নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্রবন্দর, ধলঘাটা অর্থনৈতিক অঞ্চল, কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, এসপিএম প্রকল্প, সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া দ্বীপের মতো প্রাকৃতিক সুন্দর দ্বীপ এবং বিশাল বঙ্গোপসাগর। ফলে এদিকে দৃষ্টি রয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক দুবারের এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ। জামায়াতের হয়ে লড়ছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হকও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
সুষ্ঠু ভোট হলে এ আসনে এবার জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী হবেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
কক্সবাজার-৩: কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবীবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জামায়াতে ইসলামীর শহিদুল আলম বাহাদুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাদ্দিস আমিরুল ইসলাম।
তবে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে লুৎফুর রহমান কাজল ছাড়া অন্যরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারবে না বলে মনে করেন স্থানীয় ভোটাররা।
এ আসনের ভোটার মুসলিমা জান্নাত বলেন, কক্সবাজারে অনেক উন্নয়ন প্রয়োজন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ যারা করতে পারবে, আমরা সেরকম প্রার্থীকেই বিজয়ী করতে চাই।
বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, এ আসনটি বিএনপির আসন হিসেবেই পরিচিত। প্রচার শুরুর আগে থেকেই মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের মাঝে ভোট দেওয়ার একটি স্বপ্ন জাগ্রত হয়েছে। আমরা মানুষের সেই অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। বিএনপি গণমানুষের দল, গণমানুষই বিএনপিকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।
কক্সবাজার-৪: উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে এবার বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী। তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতিও। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী। ভোটের মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা নুরুল হকও।
বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য জেলা বিএনপির নেতা মো. আব্দুল্লাহর সমর্থকরা টেকনাফে মশাল মিছিল ও কাফনের কাপড় পরে মিছিল করেছিল।
সব মিলিয়ে এখানকার ভোটার আর সচেতন মহল মনে করছে, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ নূর আহমদ আনোয়ারী বিজয়ী হবেন বলে আশা করছেন।
ইএইচ