আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন কারাবন্দিরা। দেশের ৭২টি কারাগারে গত সাত দিনে ৫ হাজার ৬৭ জন বন্দি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ।
কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ভোট দেওয়া বন্দিদের মধ্যে নারী ১৯৭ জন এবং ভিআইপি বন্দি রয়েছেন ৫৬ জন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এ ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৩ ফেব্রুয়ারি ১৫২১ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১১৩৮ জন, ৬ ফেব্রুয়ারি ৪২০ জন, ৭ ফেব্রুয়ারি ৪৭১ জন, ৮ ফেব্রুয়ারি ২৯৫ জন এবং আজ ৯ ফেব্রুয়ারি ২৩৪ জন বন্দি ভোট দিয়েছেন।
তবে নিরাপত্তার কারণে ভিআইপি বন্দিদের নাম প্রকাশ করেনি কারা কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭২টি কারাগারে বর্তমানে বন্দি সংখ্যা প্রায় ৮৭ হাজার। এর মধ্যে ৬ হাজার ৩৬৩ জন বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। অর্থাৎ বন্দিদের মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ ভোটার হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে বিভিন্ন কারণে ৪১৩টি আবেদন নাকচ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে ৫ হাজার ৯৫০ জন বন্দি ভোট দেওয়ার চূড়ান্ত সুযোগ পান।
নিবন্ধন বাতিল হওয়ার বিষয়ে জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, সঠিক তথ্য না দেওয়া, একাধিক এনআইডি থাকা কিংবা এনআইডিতে ভুল থাকার কারণে অনেকের আবেদন বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩০০ জন বন্দি নিবন্ধন করার পর জামিনে মুক্তি পাওয়ায় তারা আর পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারেননি।
নিয়ম অনুযায়ী, একবার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত হলে সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না।
ইএইচ