বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাঁধন সরকার পূজা নতুন করে সংসার জীবন শুরু করেছেন।
সোমবার পারিবারিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুভংকর সেনকে বিয়ে করেছেন তিনি। গায়িকার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ এক বছরের বন্ধুত্ব, বোঝাপড়া ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই তাদের সম্পর্ক পরিণয়ে রূপ নেয়।
গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে পূজা জানান, ‘প্রায় এক বছর আগে আমাদের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, কথা বলতে বলতে বুঝলাম আমরা দুজনই জীবনের প্রতি, সম্পর্কের প্রতি, কাজের প্রতি একইরকম দৃষ্টিভঙ্গি রাখি। অবশেষে গতকাল পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হলো। আমাদের জন্য দোয়া চাই।’
পূজার স্বামী শুভংকর সেন পেশায় একজন মডেল। পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পরিচিতির পর বেশ কয়েকটি সামাজিক ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে বলে জানান দুজনের পরিচিতরা। তবে তারা কখনোই সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেননি। শান্ত স্বভাবের শুভংকর সেন সম্পর্কে পরিচিতজনেরা জানাচ্ছেন, তিনি খুবই সহনশীল, দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য যা পূজার সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করেছে।
বাঁধন সরকার পূজা দেশের সমকালীন সংগীত অঙ্গনে এক শক্তিশালী উপস্থিতির নাম। অল্প বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করলেও দ্রুতই শ্রোতাদের মন জয় করতে সক্ষম হন তিনি। তার গাওয়া জনপ্রিয় অনেক গান ইউটিউবে কোটি ভিউ অতিক্রম করেছে—যা তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ।
তার আলোচিত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘তুমি দূরে দূরে আর থেকো না’, ‘সাত জনম’, ‘এত কাছে’, ‘চুপি চুপি’, ‘একটাই তুমি’, ‘তোমার আমার ভালোবাসা’, ‘তুমি ছাড়া’, ‘কেন বারে বারে’, ‘মানে না মন’ এবং ‘মিউজিক তোমায় ছেড়ে।’ ভক্তদের কাছে পূজা শুধুই একজন শিল্পী নন; বরং তরুণ প্রজন্মের আবেগ-অনুভূতি যারা গান দিয়ে তুলে ধরতে পারেন, তাদের অন্যতম তিনি।
২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পূজা মডেল অর্ণব দাস অন্তুকে বিয়ে করেছিলেন। চার বছরের সংসার জীবনের পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর কিছু সময় নিজেকে গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত ছিলেন পূজা। কাজের মধ্যেই নিজেকে পুনর্গঠন করেন। তাই এবার বিয়ে নিয়ে তিনি অনেকটাই নিশ্চিত, আত্মবিশ্বাসী ও পরিণত মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
বিনোদন জগতে সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার বিষয়টি নতুন নয়, তবে পূজা সবসময়ই ব্যক্তিগত বিষয়ে সংযত থেকেছেন। সে কারণেই নতুন বিয়ে নিয়ে তিনি একান্ত ব্যক্তিগত শান্তির জায়গাটি প্রকাশ্যে আনলেও অতিরিক্ত আলোচনার জায়গা তৈরি করতে চান না।
বিয়ের খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। অনেকেই লিখছেন—‘পূজার জীবনে শান্তি আসুক’, ‘তার গান যেমন সুন্দর, জীবনও তেমন হোক’, ‘দ্বিতীয় ইনিংস সুন্দর কাটুক’। সহশিল্পীরাও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন—একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত স্থিতি তার কাজেও ইতিবাচক ছাপ ফেলে।
পূজা জানিয়েছেন, বিয়ের কারণে কাজ থেমে থাকছে না বরং নতুনভাবে শক্তি নিয়ে আবারও কাজে ফিরছেন তিনি। বর্তমানে তিনি কয়েকটি নতুন গান ও লাইভ পারফরম্যান্সের পরিকল্পনা করছেন। দাম্পত্য জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা তার সৃজনশীলতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদী এই শিল্পী।
তিনি বলেন, মানুষের জীবনে ব্যক্তিগত সুখ-শান্তি খুব জরুরি। সম্পর্কের স্থিরতা একজন শিল্পীকে আরও মনোযোগী করে। আমি চাই আগের মতোই গান করে যাই, ভক্তরা যেন আমাকে ভালোবাসে।
দুই পরিবারের সদস্যরাও এই বিবাহে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। পরিবার-পরিজনসহ ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের উপস্থিতিতেই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়। পূজার পরিবারের মতে, শুভংকর সেন একজন ভদ্র, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল তরুণ। তাদের বিশ্বাস, এই সম্পর্ক পূজাকে সুখ ও স্থিরতা দেবে।
শুভংকর সেনের পরিবারও সমান আনন্দ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, পূজা শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি একজন ভালো মানুষও। তার স্বভাব-ব্যক্তিত্ব তাদের মন জয় করেছে।
বিয়ে শেষে আপাতত ছোট একটি সময় একান্ত বিশ্রাম নেবেন বলে জানিয়েছেন পূজা। তবে খুব শিগগিরই আবার স্টুডিওতে ফিরবেন। নতুন গান, নতুন মিউজিক ভিডিও এবং কনসার্ট—সবকিছু নিয়েই তার পরিকল্পনা। শুভংকরও কাজে ব্যস্ত থাকলেও দাম্পত্য জীবনে পরস্পরকে সময় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দুজনই দিয়েছেন।
জেএইচআর/ইএইচ