নির্ভয়ে যেসব ফল ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারবেন

হাসান ইসলাম  প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৫, ০৩:৫২ পিএম

বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস রোগটি মহামারি রূপ ধারণ করছে। এটি এতটাই ভয়াবহ যে, কোনো ব্যক্তিকে এ রোগে ধরলে চিরমুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় না। তবে পরিমিত খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে রোগটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 

ডায়াবেটিস হলে প্রথমেই যে বিষয়টি মাথায় আসে, তা হলো খাবারের রুটিন, অর্থাৎ একজন ডায়াবেটিস রোগী কী কী খেতে পারবেন আর কী কী খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।  

অনেকের ধারণা, ডায়াবেটিস হলে মিষ্টিজাতীয় সব খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হয়। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ফলমূল যেহেতু মিষ্টিজাতীয়, তাই এগুলো খাওয়া ঠিক নয়।  

গবেষণায় উঠে এসেছে,একজন ডায়াবেটিস রোগী পরিমিত ফল খেতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে কোন ফলগুলো ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযোগী তা জানা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং বেশি ফাইবারসমৃদ্ধ ফল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।  

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫-এর নিচে, সেসব ফলকে ডায়াবেটিসবান্ধব ধরা হয়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ফলে ভিটামিন ও ফাইবার রয়েছে, এমন ফল খাওয়া উচিত।  

চিকিৎসকদের মতে, ফল জুস বানিয়ে খাওয়া উচিত নয়, কারণ জুস করলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেড়ে যায়। 

ডায়াবেটিস থাকলেও যে ফলগুলো খাওয়া যাবে, তা একনজরে দেখে নিন—

আপেল:  আপেলে প্রচুর ফাইবার, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এতে থাকা পেকটিন রক্তের শর্করা কমাতে সাহায্য করে এবং শর্করা ধীরে শোষিত হয়। তবে অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। প্রতিদিন প্রায় ১১০ গ্রাম আপেল গ্রহণ করা যেতে পারে।

নাশপাতি:  নাশপাতিতে রয়েছে ভিটামিন, আঁশ ও খনিজ। আঁশের কারণে দেহে শর্করার শোষণ ধীরে হয়। এছাড়া এতে ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও হৃদস্বাস্থ্য’র জন্য উপকারী। একজন ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন ১৫০ গ্রাম নাশপাতি খেতে পারবেন।

পেয়ারা: পেয়ারায় ভিটামিন সি ও প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকে, যা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ফাইবার বেশি থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সাহায্য করে।

কমলালেবু: কমলালেবু রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধিতেও সহায়ক। এটি ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ এবং ফাইবার বেশি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ।

পেঁপে: পেঁপেতে প্রচুর প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এটি সহজপাচ্য, কম চিনিসমৃদ্ধ এবং হজমে সহায়ক। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগী পরিমিত মাত্রায় খেতে পারে। এক্ষেত্রে একজন ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম পাকা পেঁপে খেতে পারবেন।

জাম ও স্ট্রবেরি:  জাম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। স্ট্রবেরিতেও রয়েছে উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার, যা পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।

কামরাঙা: কামরাঙায় রয়েছে ভিটামিন সি ও প্রচুর পরিমানে ফাইবার। এতে ক্যালরি ও চিনি কম থাকে, যা কোষের ক্ষতি মেরামতে সাহায্য করে। তবে কিডনির রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি না খাওয়াই ভালো।

কিউই: কিউই ফাইবারসমৃদ্ধ এবং কার্বোহাইড্রেট কম থাকে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ায়। এছাড়া পটাশিয়াম থাকায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি পুষ্টিকর ও নিরাপদ ফল।

হাসান/ইএইচ