হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭৭৯

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

দেশে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৮টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৯৭ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে এবং রোগটির উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন আরও ৯৭৪ জন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হাম পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিন ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সরকারি তথ্যমতে, এ বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাভে প্রাণহানি ও আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

বিভাগওয়ারী মৃত্যুর পরিসংখ্যান ও ভৌগোলিক চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত একদিনে যে ৮ জন মারা গেছে, তাদের মধ্যে ভৌগোলিক বিস্তৃতিতে রাজধানী ও এর আশপাশের জেলাই শীর্ষে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ঘনবসতি এবং অসচেতনতার কারণে এই অঞ্চলে সংক্রমণের তীব্রতা বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা বিভাগ, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ জন শিশু মারা গেছে। এছাড়া সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১ জন করে মোট ৩ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ১৬ জুলাই পর্যন্ত চার মাসে সারা দেশে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৭৯ জন,রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যার সিংহভাগই শিশু।

সংক্রমণ ও শনাক্তের সামগ্রিক পরিস্থিতি

চলতি মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তি থেকে প্রাপ্ত চার মাসের সামগ্রিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

তথ্য অনুযায়ী, উপসর্গ থাকা রোগীদের একটি বিশাল অংশকে (প্রায় ৮৫%) অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এ পর্যন্ত ৯৪ হাজার ২৭৫ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানেও কয়েক হাজার রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসকদের উদ্বেগ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম মূলত একটি বায়ুবাহিত এবং অত্যন্ত তীব্র সংক্রামক রোগ। এটি দ্রুত এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞ মতে, যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় হামের প্রতিষেধক বা এমআর (Measles-Rubella) টিকা গ্রহণ করেনি, তারা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়।

বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকরা মূলত দুটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন। কোনো শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ (যেমন- তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে র‍্যাশ বা দানা, সর্দি-কাশি) দেখা দিলে তাকে অনতিবিলম্বে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা বা আইসোলেশনে রাখতে হবে। যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাদ পড়া শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনা জরুরি।

সাধারণ জ্বরের আড়ালে হাম বা ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক রোগ লুকিয়ে থাকতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে কোনো ওষুধ না খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি আরও বেগবান করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।

এএন