লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে যে অভ্যাসে 

মো. জিন্নাতুল ইসলাম প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৫, ০৩:৪৪ পিএম

বিশ্বব্যাপী লিভার ক্যানসার একটি বেদি রোগ। রোগটির অবস্থান এখন ক্যান্সারের মধ্যে ষেষ্ঠ। তবে মৃত্যু হারের দিক থেকে এটি তৃতীয়। যার প্রধান কারণ হেপাটাইটিস বি ও সি, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং স্থূলতা। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গ্রহণ করলে এই রোগের ঝুঁকি প্রায় ৬০% পর্যন্ত কমানো যেতে পারে। সম্প্রতি ‘দি ল্যানসেট কমিশন’-এর এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাপী লিভার ক্যান্সারের প্রধান কারণ হেপাটাইটিস বি এবং সি। এ রোগের ঝুঁকি কমাতে কিছু অভ্যাস গ্রহণ ও কিছু বর্জন করা জরুরি। এর মধ্যে প্রধান হলো মদ্যপান পরিহার করা এবং স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে রাখা।

লিভার ক্যানসারের কারণ:

ফ্যাটি লিভার ও লিভার ক্যান্সার: গবেষণায় উঠে এসেছে, লিভারে ফ্যাট জমার কারণে মেটাবলিক ডিসফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়েটোহেপাটাইটিস (এমএএসএইচ) দেখা দেয়, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। 

মদ্যপান ও স্থূলতা: ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের অধ্যাপক স্টিফেন লাম চ্যান বলেন, যারা স্থূলতা বা ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে মদ্যপান পরিহার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। 

লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে  করণীয়

১. মদ্যপান পরিহার করা: অতিরিক্ত মদ্যপান লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সম্পূর্ণভাবে মদ্যপান ত্যাগ করতে হবে।


২. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা: স্থূলতা লিভার ক্যান্সারের বড় ঝুঁকি। স্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।


৩. হেপাটাইটিস সংক্রমণ প্রতিরোধ: হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস লিভার ক্যান্সারের প্রধান কারণ। টিকা নেওয়া এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।


৪. সুষম খাদ্য গ্রহণ: সবজি ফল, সবজি এবং শস্য জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনি এড়ানো উচিত।


৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: লিভার ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের জন্য নিয়মিত পরীক্ষা করানো।

এছাড়া লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতন জীবনধারা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গ্রহণ অপরিহার্য। মদ্যপান পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ, হেপাটাইটিস টিকা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

 জিই/জেএইচআর