চোখ শুকিয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ আরাম পেতে করণীয় সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি 

স্বাস্থ্য ডেস্ক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ০৫:০৬ পিএম

বর্তমান যুগে চোখ শুকিয়ে যাওয়া একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা, অতিরিক্ত এসি ব্যবহার, ধুলাবালি, ঘুমের অভাব এবং পর্যাপ্ত পানি না পান করার কারণে অনেকেই চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন।

চোখে জ্বালা, খচখচে অনুভূতি, লালচে ভাব, ঝাপসা দেখা বা চোখে বালির মতো কিছু ঢুকে থাকার অনুভূতি, এসবই চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সাধারণ লক্ষণ। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না নিলে এ সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

চোখ শুকিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ

চোখে স্বাভাবিকভাবে যে অশ্রু বা পানি তৈরি হয়, তা চোখকে আর্দ্র রাখে ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। কিন্তু অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার করলে চোখ কম পিটপিট করা হয়, ফলে অশ্রু দ্রুত শুকিয়ে যায়। এছাড়া শুষ্ক পরিবেশ, ধোঁয়া, দূষণ, বয়সজনিত পরিবর্তন এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও চোখ শুকিয়ে যেতে পারে।

তৎক্ষণাৎ আরাম পেতে করণীয়

স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করে চোখ বিশ্রাম দিন: চোখ শুকিয়ে গেলে প্রথম কাজ হলো মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে নেওয়া। চোখ বন্ধ করে ২-৫ মিনিট বিশ্রাম নিলে চোখের পেশি আরাম পায় এবং অস্বস্তি কমে।

পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে চোখ ধোয়া: চোখে জ্বালা বা শুষ্কতা অনুভব করলে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নিলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। এতে চোখের ধুলাবালি দূর হয় এবং চোখ সতেজ অনুভূত হয়।

ঘন ঘন চোখ পিটপিট করার অভ্যাস: চোখ পিটপিট করলে চোখে স্বাভাবিক অশ্রু তৈরি হয়, যা চোখকে আর্দ্র রাখে। স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সচেতনভাবে বারবার চোখ পিটপিট করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। পানি চোখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কৃত্রিম আলো ও অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা এড়ানো: অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো বা খুব কম আলোতে কাজ করলে চোখে চাপ পড়ে। চোখ শুকিয়ে গেলে উজ্জ্বল স্ক্রিন ও কৃত্রিম আলো এড়িয়ে চলা ভালো। প্রয়োজনে নাইট মোড বা ব্লু লাইট ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি আরামের জন্য করণীয়

চোখের হালকা ব্যায়াম: চোখ ডানে-বামে, ওপর-নিচে ঘোরানো এবং কাছের ও দূরের বস্তু পর্যায়ক্রমে দেখলে চোখের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। দিনে কয়েক মিনিট চোখের এই ব্যায়াম করলে শুষ্কতা কমে।

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা: ঘুমের অভাব চোখের শুষ্কতা বাড়িয়ে তোলে। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ধুলাবালি ও ধোঁয়া থেকে চোখ রক্ষা: বাইরে চলাচলের সময় ধুলাবালি বেশি থাকলে চশমা ব্যবহার করা ভালো। এতে চোখে ময়লা ঢোকার ঝুঁকি কমে এবং চোখ শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ: ভিটামিন-এ ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার চোখের জন্য উপকারী। গাজর, শাকসবজি, ডিম, মাছ ও বাদাম নিয়মিত খেলে চোখের আর্দ্রতা বজায় থাকে।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ: ঘরোয়া পদ্ধতিতে আরাম না পেলে বা চোখের শুষ্কতা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজে নিজে কোনো ওষুধ বা আই ড্রপ ব্যবহার করা উচিত নয়।

চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ। চোখ শুকিয়ে যাওয়া সাময়িক সমস্যা মনে হলেও এটি অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো বিশ্রাম, পরিষ্কার পানি, পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক অভ্যাস ও সচেতনতা মেনে চললে চোখের শুষ্কতা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চোখের যত্নে একটু সচেতনতাই পারে দীর্ঘদিন চোখকে সুস্থ ও স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে।

ইএইচ