দেশে হাম ও নিউমোনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৫৪ বেডের একটি বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড এবং বহিঃবিভাগে সার্জারি বর্ধিত অংশের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইসিডিডিআর, বি এবং শিশু হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনাব সরদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন এসব ইউনিটের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে হামজনিত নিউমোনিয়ায় শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় ‘বাবল সিপ্যাপ’ ব্যবহারের ওপর একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনাব সরদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবল সিপ্যাপ প্রযুক্তির বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং এর ব্যাপক প্রসারের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আগামী রবিবার থেকে সারাদেশে একযোগে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক জানান, আইসিডিডিআর, বি উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের বাবল সিপ্যাপ প্রযুক্তি নিউমোনিয়াজনিত মৃত্যুহার ও অক্সিজেনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। বর্তমানে হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য আইসিইউ সুবিধাসহ ৫৪ বেডের আলাদা ওয়ার্ডে সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম. আজিজুল হক। তিনি হাম ওয়ার্ডের জন্য ৩টি ভেন্টিলেটর, ৫টি সিপ্যাপ মেশিন এবং ৫টি হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানোলা তাৎক্ষণিক প্রদানের জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
আইসিডিডিআর, বি-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রচলিত থেরাপির তুলনায় বাবল সিপ্যাপ প্রযুক্তি শিশুদের জীবন বাঁচাতে অধিক কার্যকর। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই বিশেষায়িত ওয়ার্ড ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে শিশুদের মৃত্যুহার অনেক কমে আসবে।
জেএইচআর