দেশে এইডস আক্রান্তদের অর্ধেকই সমকামী ও শিক্ষার্থী

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি

দেশে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসটিডি ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি। বর্তমানে প্রায় আট হাজার ৫০০ জন চিকিৎসাধীন থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩১৩ জন। এর মধ্যে দুই হাজার ৬৬৬ জন মারা গেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীনদের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিএমইউ ও মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ তরুণ বয়সী এবং শিক্ষার্থী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সামাজিকভাবে বিষয়টি নিয়ে সংকোচ ও গোপনীয়তা থাকায় অনেকেই দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসেন, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, আগে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী হিসেবে যৌনকর্মী ও মাদকসেবীদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা গেলেও এখন নতুন ধরণে সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার সুযোগ ও ডায়াগনোসিস বাড়ায় রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কর্মকর্তারা বলছেন, সমকামী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জটিলতার কারণে এই গোষ্ঠীতে সেবা পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে।

অন্যদিকে, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় সেবা কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিট সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পরীক্ষার হার ওঠানামা করছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী বছরগুলোতে কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সামাজিক কলঙ্ক দূর করা। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এএন