দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে জাতীয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ‘টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি)’। আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে। এদিন থেকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ১৫ মাস বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে টাইফয়েডের এই টিকা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইপিআইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকে শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। প্রতিটি শিশুকে বাম ঊরুর মধ্যভাগের বহিরাংশের মাংসপেশিতে শূন্য দশমিক ৫ মিলিলিটার মাত্রার এক ডোজ টিসিভি প্রয়োগ করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত টিকাদান সেশনে এমআর-২ (হাম-রুবেলা) টিকার সঙ্গে একই সময়ে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিনও দেওয়া যাবে। ফলে অভিভাবকদের আলাদা করে অতিরিক্ত টিকাদান সেশনে যেতে হবে না।
টিকাদান কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং ‘ভ্যাকসইপিআই’ (VaxEPI) অ্যাপের মাধ্যমে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন।
এ ছাড়া অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে উঠান বৈঠক, প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে সময়োপযোগী ও কার্যকর নতুন টিকা যুক্ত করার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এতে দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এএন