লন্ডনভিত্তিক ডকুমেন্টারি প্রকাশ

ব্যাংক দখল, হুন্ডি ও দুর্নীতি: শেখ হাসিনার শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫, ০২:০২ পিএম

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি) বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন (২৩ হাজার ৪০০ কোটি) ডলার পাচারের অভিযোগ করে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছে। 

এতে ব্যাংক দখল, ভুয়া ঋণ, হুন্ডি ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টি উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ’স মিসিং বিলিয়নস, স্টোলেন ইন প্লেইন সাইট’ শিরোনামের ডকুমেন্টারিতে আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকরা অংশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—এত বিপুল অর্থ কীভাবে বিদেশে চলে গেছে এবং তা ফেরত আনা সম্ভব হবে কি না।

ডকুমেন্টারিতে দেখানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনার শাসনামলে সরকারের দমন–পীড়ন ও পুলিশের সহিংসতার প্রেক্ষাপট। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী আন্দোলনে অন্তত ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন।

দুর্নীতি ও অর্থ পাচার

ডকুমেন্টারিতে শেখ হাসিনা ও ঘনিষ্ঠদের দুর্নীতি তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের কয়েকজন পরিবার সদস্য যুক্তরাজ্যে বিপুল সম্পত্তি অর্জন করেছেন। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ৩০০টির বেশি সম্পত্তি যুক্তরাজ্যে শনাক্ত ও জব্দ হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক মোশতাক খান বলেন, শাসনামলের শেষ দিকে আওয়ামী লীগ অর্থনীতি ও দলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

ব্যাংক দখল ও লুটপাট

ডকুমেন্টারিতে দেখা যায়, শাসকদের ঘনিষ্ঠরা সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর মাধ্যমে ব্যাংক দখল ও শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে সম্পদ দখল করেছেন। এছাড়া পদ্মা সেতু ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎের বিষয়ও উঠে এসেছে।

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে চ্যালেঞ্জ

হাসিনার পতনের পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশে লুট হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া “বছরের পর বছর” সময় লাগতে পারে। টাস্কফোর্সকে ব্যবসায়ী বা ধনকুবেরদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হয়, যা জটিলতা বৃদ্ধি করে।

ডকুমেন্টারিতে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদকরা উল্লেখ করেছেন, বিদেশে পদক্ষেপ গ্রহণে যদি অন্যান্য সরকার সহযোগিতা করে, তবে সম্পদ উদ্ধারের চাকা ঘুরতে শুরু করবে। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—যারা শেখ হাসিনার শাসনকালে অর্থ পাচার করেছে, তারা ভবিষ্যতের সরকারের ওপর কতটা প্রভাব বিস্তার করবে, তা দেশে দুর্নীতির পরিধি নির্ধারণ করবে।

ইএইচ