ডাকসুতে ছাত্রশিবিরের জয়: ভারতকে সতর্ক করলেন শশী থারুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫, ১০:৪৮ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জামায়াতপন্থী ছাত্র সংগঠনের জয়কে গুরুত্ব দিয়ে ভারতের কংগ্রেস দলের প্রবীণ নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অবহেলা করা উচিত হবে না।

রোববার এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক মতামতে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাবি ছাত্র সংসদে জামায়াতপন্থীদের জয় ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো ইসলামপন্থী কোনো সংগঠনের হাতে নিয়ন্ত্রণ যাওয়ার ঘটনা। থারুর মতে, এটি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের ইঙ্গিত।

তিনি বিশ্লেষণ করেন, এই ফলাফল আসলে বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল—আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থাহীনতার প্রতিফলন। সাধারণ মানুষ ও তরুণরা এই দলগুলোকে দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব ও সহিংস রাজনীতির প্রতীক হিসেবে দেখে। তাই হতাশ তরুণরা বিকল্প শক্তি খুঁজছে। তবে থারুর মতে, ভোটের এই ফল সরাসরি ইসলামপন্থী রাজনীতির প্রতি অগাধ সমর্থনের প্রমাণ নয়; বরং নতুন দিক খোঁজার প্রবণতা।


দীর্ঘ সময় ধরে দমন-পীড়নের শিকার জামায়াত এখন তরুণদের মধ্যে নতুনভাবে জায়গা করে নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেও কিছু ইস্যুতে বিতর্কিত, বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে—এই অবস্থায় জামায়াত ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে সুযোগ পেতে পারে।

থারুর সতর্ক করেন, যদি জামায়াত সরাসরি ক্ষমতায় আসে বা সরকারের সঙ্গে প্রভাব বিস্তার করে, তবে ভারত জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাদের সমন্বয় সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, ভারতের জন্য এই নির্বাচন একটি সতর্কসংকেত। প্রতিবেশী দেশের রাজনীতিকে কেবল ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ভারতের উচিত পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা, উদীয়মান শক্তিগুলোর সঙ্গে সংলাপ রাখা এবং জামায়াতের ভেতরের সংস্কারপন্থীদের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করা।

থারুর ভাষ্যে, “আমরা এতদিন যে কৌশলগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর করেছি, তা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। বাস্তবতা যত দ্রুত মেনে নেব, তত দ্রুত আমরা প্রস্তুত হতে পারব।”

ইএইচ