নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানির বিজয় ঘোষণার রাতটি ছিল উৎসবমুখর। সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝেই যখন তিনি মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন এক বিশেষ নাম উচ্চারণে পুরো জনতা আরও জোরে চিৎকার করে উঠল আর আমার অসাধারণ স্ত্রী রামা, হায়াতি আমার জীবন!
আরবি শব্দ হায়াতি দিয়ে ভালোবাসার সেই সম্বোধন কেবল একটি রোমান্টিক মুহূর্ত নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক অভিযাত্রার পেছনে রামা দুওয়াজির নীরব শক্তির প্রতীকও।
রামা দুওয়াজি নিজে একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী। নিউইয়র্কের আর্ট জগতে তিনি পরিচিত তার সূক্ষ্ম নকশা, রঙের বৈচিত্র্য এবং প্রবাসী সংস্কৃতির প্রতিফলন তুলে ধরার জন্য। রাজনীতির মঞ্চ তাঁর পরিচিত ক্ষেত্র নয়; বরং তিনি বরাবরই প্রচারের পেছনে থাকতে পছন্দ করেন।
কিন্তু মেয়র নির্বাচনের লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে সামনে আসতে হয়েছে তাকে। জনসভা, প্রচার, সাংস্কৃতিক আয়োজন সব জায়গায় স্বামীর পাশে থেকেছেন তিনি। তাঁর উপস্থিতি মামদানির প্রচারণায় এক নতুন সংবেদনশীল মাত্রা যোগ করে, যা তরুণ ও প্রবাসী ভোটারদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
বিজয়ের রাতে মঞ্চে উঠে যখন রামা দুওয়াজি স্বামীর পাশে দাঁড়ালেন, সমর্থকদের করতালিতে মুহূর্তটি যেন প্রতীকী হয়ে উঠল। নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে এই যুগল এখন কেবল শহরের প্রশাসনের নয়, নতুন প্রজন্মের এক যৌথ প্রতিচ্ছবি।
মামদানির রাজনৈতিক সাফল্যের পেছনে রামার ভূমিকা নিঃশব্দ হলেও তা গভীর। প্রচারণার সময় তিনি একাধিক আর্ট প্রদর্শনী আয়োজন করে তহবিল সংগ্রহে সহায়তা করেছেন এবং তরুণ শিল্পীদের যুক্ত করেছেন সামাজিক পরিবর্তনের আলোচনায়।
রামা দুওয়াজির জীবনে প্রতিফলিত হয়েছে বহু সংস্কৃতির মিলন। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—এই তিন মহাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রভাব তাঁর শিল্পকর্মে স্পষ্ট। তিনি বিশ্বাস করেন, শিল্পই মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া ও সহমর্মিতার সেতুবন্ধন।
এই ভাবনাই সম্ভবত তাকে মামদানির রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করেছে একটি নিউইয়র্ক যেখানে ন্যায়, সমতা ও সহানুভূতির জায়গা থাকবে সবার জন্য।
সামনে কী?
জোহরান মামদানি এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একজন। কিন্তু জনজীবনের আলোচনায় তার স্ত্রী রামা দুওয়াজির নামও সমানভাবে উঠে আসছে। শিল্পী হিসেবে তাঁর স্বতন্ত্র পরিচয় ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনে নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক পরিসরকে প্রভাবিত করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রামা দুওয়াজি এখন কেবল মেয়রের স্ত্রী নন তিনি নিউইয়র্কের নতুন শিল্প-রাজনীতির এক নীরব কণ্ঠ, যিনি নিজের পথে চলছেন, তবে সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যেই।
ইএইচ