মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ভারতের প্রতিক্রিয়া: ‘হাসিনাকে ফেরত সম্ভব নয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৬:২৩ পিএম

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার পরপরই প্রশ্ন উঠেছেদিল্লি কি ঢাকা আদালতের এই রায়কে ভিত্তি করে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে?

ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশীয় স্টাডিজ অনুষদের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর কোনো সম্ভাবনাই নেই। গত দেড় বছরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যেমন নড়বড়ে হয়েছে, তেমন সময়ে দিল্লি এ ধরনের পদক্ষেপ নেবে এটা ভাবা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি আরও বলেন, আদালতের এই রায় তার কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল না।

তার ভাষায়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সবাই দেখেছে। নিরস্ত্র ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো নথিবদ্ধ। তখনকার প্রধানমন্ত্রী গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন এ বিষয়ে প্রমাণও উপস্থাপিত হয়েছে।

অধ্যাপক শ্রীরাধা মনে করেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়মমাফিক চলেছে বলে অভিমত দিয়েছে। “আওয়ামী লীগ পাল্টা বয়ান তৈরির চেষ্টা করবে, কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে শেখ হাসিনা গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন বলেও যোগ করেন তিনি।

এদিন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ উপস্থাপন করেন। দুই নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং এক নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আদালত।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী মামুনের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে সত্য প্রকাশ করায় তার সাজা তুলনামূলক কম হতে পারে বলে আদালত মত দেয়।

রায় ঘোষণার পর থেকেই দিল্লির ওপর আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন দেখার বিষয়, ভারত পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায় কি না।

ইএইচ