আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার প্রয়াণের সংবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৯:৩০ এএম

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিরবিদায়ের সংবাদটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে তার ইন্তেকালের পর বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স ও সিএনএন-এর মতো সংবাদমাধ্যমগুলোতে একে ‘একটি যুগের অবসান’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে।

বিবিসি:  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রধান শিরোনামে লিখেছে, "বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে প্রয়াত।" প্রতিবেদনে তাকে নব্বইয়ের দশকের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অন্যতম কাণ্ডারি এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

আল জাজিরা: কাতারভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমটি তাঁদের ব্রেকিং নিউজে জানিয়েছে, "দীর্ঘ অসুস্থতার পর ঢাকার হাসপাতালে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু।" তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে জাতির জন্য ‘সর্বোচ্চ অনুপ্রেরণার উৎস’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

রয়টার্স : আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তাঁদের প্রতিবেদনে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক লড়াই এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক বৈরিতার বিষয়টি তুলে ধরেছে। তারা বলছে, ২০০৬ সাল থেকে ক্ষমতার বাইরে থাকলেও এবং দীর্ঘ সময় কারাবন্দী ও গৃহবন্দী থাকলেও খালেদা জিয়া ও তাঁর দল বিএনপি বাংলাদেশে ব্যাপক জনসমর্থন ধরে রেখেছে।

এনডিটিভি ও দ্য ডন: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বেগম জিয়া ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী নারী নেত্রী, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয়েছিল। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা 'ডন' অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ করে লিখেছে, "বাংলাদেশের জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই।"

এ ছাড়া সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান এবং হিন্দুস্তান টাইমস-এর মতো গণমাধ্যমগুলো তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, দীর্ঘ কারাবাস এবং সাম্প্রতিক অসুস্থতা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিটি সংবাদমাধ্যমেই গুরুত্ব পেয়েছে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা।

ইএইচ