কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তার দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার একটি “বাস্তব হুমকি” রয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের ‘সাম্রাজ্যের’ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, বিষয়টি “ভালো শোনাচ্ছে”।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর কলম্বিয়াজুড়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পেত্রো মনে করেন, ট্রাম্পের এই হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রেসিডেন্ট পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-র তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সংস্থাটির এজেন্টরা “নাৎসি ব্রিগেডের” মতো আচরণ করছে। তিনি বলেন, “আইসিই এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা শুধু লাতিন আমেরিকানদের রাস্তায় তাড়া করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং মার্কিন নাগরিকদেরও গুলি করে হত্যা করছে।”
সম্প্রতি মিনিয়াপোলিস শহরে এক মার্কিন নারীকে আইসিই এজেন্টের গুলি করার ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তার প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার এড়াতে আরও ১৯ লাখ অভিবাসী “স্বেচ্ছায়” দেশ ছেড়েছেন।
ট্রাম্প একাধিকবার পেত্রোকে মাদক পাচার রোধে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করে তাকে “সাবধান থাকতে” বলেছেন। এমনকি তিনি পেত্রোকে এমন এক ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, “যে কোকেন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার মুখে কলম্বিয়া কীভাবে আত্মরক্ষা করবে এমন প্রশ্নে পেত্রো বলেন, “আমাদের হাতে বড় সেনাবাহিনীর মোকাবিলা করার মতো উন্নত অস্ত্র বা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। তবে আমাদের শক্তি হলো সাধারণ জনগণ, পাহাড় আর জঙ্গল। আমরা সবসময় এগুলোর ওপর নির্ভর করেই টিকে থেকেছি।” তিনি আরও জানান, পানামার মতো ভূখণ্ড হারানোর ইতিহাস কলম্বিয়ার রয়েছে, তাই তারা সতর্ক।
সাবেক গেরিলা যোদ্ধা পেত্রো তার বিরুদ্ধে আনা মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ২০ বছর ধরে মাদক চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন এবং এর ফলে তার পরিবারকে নির্বাসনেও যেতে হয়েছে।
গত বুধবার ট্রাম্প ও পেত্রোর মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। ট্রাম্প এই আলোচনাকে “বিরাট সম্মান” হিসেবে বর্ণনা করলেও এবং শিগগিরই হোয়াইট হাউসে পেত্রোকে আমন্ত্রণের কথা জানালেও, পেত্রোর বক্তব্যে সম্পর্কের উন্নতির কোনো স্পষ্ট আভাস মেলেনি।
পেত্রো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ অন্য দেশগুলোকে তাদের সাম্রাজ্যের অংশ মনে করবে এবং পরিবেশ চুক্তি (প্যারিস চুক্তি) উপেক্ষা করবে, ততক্ষণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
ইএইচ