সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় রদবদল: নতুন কিউএমজি শাহীনুল হক, এজি হোসাইন আল মোরশেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল ও পেশাদার করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে জারি করা এক আদেশের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি শীর্ষ পদে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই রদবদলে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের মতো স্পর্শকাতর ও নীতিনির্ধারণী পদগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর রসদ ও আবাসন ব্যবস্থাপনার শীর্ষ পদ কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। এর আগে তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

অন্যদিকে, বর্তমান কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার মধ্যে দায়িত্ব বিনিময় বা পারস্পরিক স্থান পরিবর্তন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা, প্রশাসন ও কল্যাণ শাখার প্রধান বা অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল হোসাইন আল মোরশেদ। তিনি এর আগে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

বর্তমান অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানকে নতুন দায়িত্ব দিয়ে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কমান্ড্যান্ট হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বর্তমান কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজকে সেনাবাহিনী থেকে প্রেষণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কূটনৈতিক কোনো গুরুত্বপূর্ণ মিশনে পাঠানো হতে পারে। এ ছাড়া, ঢাকা লজিস্টিক এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান। 

তিনি এর আগে ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমান লজিস্টিক এরিয়া জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল মো. মোস্তাগাউসুর রহমান খান স্বাভাবিক নিয়মেই অবসরে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, গত রোববারও সেনাবাহিনীর বেশ কিছু স্পর্শকাতর পদে রদবদল করা হয়েছিল। সেই আদেশে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানকে আর্টডক থেকে সদর দপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ চিফ অব জেনারেল স্টাফ করা হয়। একই সময়ে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার করা হয়। প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল রহমানকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর এই পরিবর্তনগুলো মূলত একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অনেক। পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় বাহিনীর ভেতরে প্রশাসনিক সচলতা বৃদ্ধি করে।

বিশেষ করে চিফ অব জেনারেল স্টাফ, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, এই তিনটি পদ সেনাপ্রধানের অত্যন্ত নিবিড় পরামর্শক হিসেবে কাজ করে। নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগের ফলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং আধুনিকায়নের কাজ আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই ব্যাপক রদবদল বাহিনীর চেইন অব কমান্ড এবং পেশাদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মেধার সমন্বয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করে।

জেএইচআর