সৌদি-কাতার-আমিরাতে ইরানের নতুন হামলা, ২৪ ঘণ্টায় হতাহত ২২০ মার্কিন সেনা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত ক্রমশ ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। যুদ্ধের অষ্টম দিনে দুই পক্ষই হামলার মাত্রা ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই দফায় প্রথমবারের মতো তেহরান তাদের উন্নত হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও ইরান দাবি করেছে ভিন্ন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো এসব হামলায় ২২০ জন মার্কিন সেনা ও কমান্ডার হতাহত হয়েছেন।

শনিবার রাতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) আওতাধীন ‘খতম আল-আনবিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা এয়ার বেসে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইআরজিসির এই কর্মকর্তা আরও জানান, সৌদি আরবের আল-খার্জে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও সফল হামলা চালিয়েছে ইরান। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা কোনো নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক সামরিক অভিযান শুরু করে। হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারসহ শীর্ষ সেনা কমান্ডারদের হত্যার দাবি করা হয়। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

এদিকে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন। শনিবার রাতেই ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে বলে তিনি ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্পের এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানও নতুন মার্কিন স্থাপনাগুলো শনাক্ত করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে আমেরিকান বাহিনী এবং তাদের সহযোগীদের যে কোনো প্রতিষ্ঠান এখন ইরানের বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও পুনরায় স্পষ্ট করেছেন যে ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সামনে আত্মসমর্পণ করবে না।

জেএইচআর