জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ১১:২৩ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ছাড়কৃত তেলের প্রথম অংশ চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ বাজারে পৌঁছাবে।

শুক্রবার মার্কিন জ্বালানি বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মোট ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার মধ্যে ৮৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের জন্য ইতোমধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই তেল সরবরাহের ফলে মার্কিন করদাতাদের কোনো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মূলত ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA)-এর ৩২টি সদস্য দেশের (যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ) সম্মিলিত প্রচেষ্টার অংশ। এই দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে বৃহত্তম পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসন কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবহার করায় ট্রাম্প অতীতে এর কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। তবে বুধবার কেনটাকিতে এক সমাবেশে তিনি বর্তমান উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, আমেরিকা ও বিশ্বের ওপর আসা এই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে এই প্রচেষ্টা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এর আগে টেক্সাস ও লুইজিয়ানার ভূগর্ভে সংরক্ষিত এই রিজার্ভ ব্যবহারের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসন প্রাথমিকভাবে নাকচ করে দিয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় প্রশাসন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলক্ষেত্র থেকে বিশ্ববাজারে যাওয়ার মূল রুটটি অনিরাপদ হয়ে ওঠায় এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেএইচআর