ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানি নিহত হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর ও চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বুধবার ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি এক বিশেষ বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে সেনাপ্রধান আমির হাতামি জানান, লারিজানিকে হত্যার এই পদক্ষেপের বিপরীতে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং হামলাকারীদের জন্য তা হবে বড় ধরনের অনুশোচনার কারণ। তিনি আলী লারিজানিকে একজন বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারিকে হারানোর ক্ষতি অপূরণীয় হলেও ইরান এর দাঁতভাঙা জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
এদিকে ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) আজ বুধবার এক জরুরি ঘোষণা দিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, শহীদ আলী লারিজানি ও তাঁর সঙ্গীদের হত্যার সরাসরি প্রতিশোধ নিতে ইতোমধ্যে মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। বাহিনীটির মতে, এই হামলাটি ছিল লারিজানি হত্যার বিপরীতে তাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার একটি অংশ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলী লারিজানি ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর মৃত্যু এবং পরবর্তী এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও তেহরান এখন পর্যন্ত অনমনীয় সামরিক অবস্থান বজায় রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ওই অঞ্চলে একটি বড় ধরনের যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
জেএইচআর