রমজানের পবিত্র সিয়াম সাধনার শেষ প্রান্তে এসে ওমানজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। সুলতানাত অব ওমানের প্রধান চাঁদ দেখা কমিটি ঘোষণা করেছে যে, ১৪৪৭ হিজরি সালের শাওয়াল মাসের পবিত্র নতুন চাঁদ দেখার জন্য তারা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসবে। ওমানের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং চাঁদ দেখা সংক্রান্ত মূল কমিটি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যদি ওমানের আকাশে শাওয়াল মাসের রূপালি চাঁদ দেখা যায়, তবে শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশটিতে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর যদি চাঁদ দেখা না যায়, তবে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং সেক্ষেত্রে শনিবার (২১ মার্চ) ঈদ পালিত হবে।
ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর প্রধান কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় বিশেষজ্ঞগণ।
কর্তৃপক্ষ ওমানের সকল নাগরিক এবং সেখানে বসবাসরত প্রবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে নতুন চাঁদের অনুসন্ধান করেন। যদি কেউ খালি চোখে বা আধুনিক দূরবীন বা টেলিস্কোপের মাধ্যমে শাওয়ালের চাঁদ দেখতে পান, তবে যেন দ্রুত নিকটস্থ সাব-কমিটি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যালয়ে রিপোর্ট করেন। ওমানের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যে চাঁদ দেখার জন্য ডিজিটাল টেলিস্কোপসহ বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে।
বর্তমান আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯ মার্চ ওমানের আকাশ অধিকাংশ এলাকায় পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মাস্কাট এবং দুবাইয়ের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে তাপমাত্রা ২৫° সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অনুকূল আবহাওয়া চাঁদ পর্যবেক্ষকদের জন্য সহায়ক হবে।
তবে ওমানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ধূলিকণার উপস্থিতির কারণে অনেক সময় দিগন্ত রেখা ঝাপসা থাকে, তাই আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং খালি চোখের দর্শনের মধ্যে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে পুরো দেশ।
সাধারণত সৌদি আরবসহ অন্যান্য জিসিসি (উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা) দেশগুলোর সাথে ওমানের ঈদ পালনের ক্ষেত্রে অনেক সময় একদিনের পার্থক্য দেখা যায়। ওমান তাদের নিজস্ব চাঁদ দেখা পদ্ধতির ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং সৌদি আরব বুধবার সন্ধ্যা থেকেই চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নিলেও ওমান বৃহস্পতিবারকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
গোল্ড এবং ফরেক্স মার্কেটের বৈশ্বিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও মাস্কাট সিটি সেন্টার থেকে শুরু করে ওমানের ঐতিহ্যবাহী সুক (বাজার) গুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ২০২৬ সালের এই ঈদটি ওমানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি আনবে।
ওমানের বড় বড় জামে মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদে ঈদের জামাতের জন্য বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা হচ্ছে।
ওমান সরকার ইতিমধ্যেই সরকারি ও বেসরকারি খাতের জন্য ঈদের ছুটি ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা যাওয়ার খবরের ওপর ভিত্তি করেই ছুটির মেয়াদ চূড়ান্ত হবে। মাস্কাটের সড়কগুলোতে আলোকসজ্জা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর ওমানিদের কাছে কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি তাদের পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার একটি বিশেষ সময়। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে যাতায়াত এবং ওমানি ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘শুয়া’ (Shuwa) তৈরির প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। ওমান সুলতানাতের অধিবাসীরা অত্যন্ত ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে চাঁদ দেখার ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাটি ওমানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মাস্কাট থেকে সালালাহ পর্যন্ত প্রতিটি ওমানি নাগরিকের নজর থাকবে পশ্চিম আকাশে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চাঁদ দেখার সাথে সাথেই রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা ও তারিখ জানানো হবে।
তথ্যসূত্র: ওমান নিউজ এজেন্সি (ONA), গালফ নিউজ এবং ওমান ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এএন