তুরস্কের পর এবার মিশরও সমকামী যাত্রীদের বহনকারী বিলাসবহুল প্রমোদতরী ‘স্কারলেট লেডি’কে নিজেদের বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। এলজিবিটিকিউ (এলজিবিটিকিউ) সম্প্রদায়ের যাত্রীদের নিয়ে ভূমধ্যসাগরীয় ভ্রমণে থাকা জাহাজটি পর্যটন সংস্থা ‘আটলান্টিস ইভেন্টস’-এর চার্টারে পরিচালিত হচ্ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই গ্রিসের এথেন্স থেকে যাত্রা শুরু করে জাহাজটির তুরস্কের ইজিয়ান উপকূলের পর্যটন নগরী কুসাদাসিতে নোঙর করার কথা ছিল। তবে যাত্রার প্রস্তুতির সময়ই তুরস্ক কর্তৃপক্ষ ‘নৈতিক মূল্যবোধ’-এর বিষয়টি উল্লেখ করে জাহাজটিকে তাদের বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।
তুরস্কে প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে বিকল্প গন্তব্য হিসেবে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ৯ জুলাই সেখানে নোঙরের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোর মাত্র চার ঘণ্টা আগে মিশর কর্তৃপক্ষ সেই অনুমতি বাতিল করে দেয়। যদিও এ বিষয়ে মিশরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানানো হয়নি।
তুরস্কের আয়দিন প্রদেশের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটির যাত্রীদের জীবনাচরণ তাদের সমাজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বিষয়টি স্থানীয় জনগণের মধ্যে অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, মিশরের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও রক্ষণশীল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই দেশের বন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর ‘স্কারলেট লেডি’ কিছু সময় সাগরে অবস্থান করে পরে পূর্বনির্ধারিত গন্তব্য গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে। প্রায় এক হাজার ৯০০ যাত্রী বহনকারী এ প্রমোদতরীর অধিকাংশই ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং সমকামী পুরুষ।
জাহাজটিতে ব্রডওয়ের খ্যাতিমান অভিনেত্রী ও গায়িকা প্যাটি লুপোনও ছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন। পর্যটন সংস্থা ‘আটলান্টিস ইভেন্টস’-এর প্রেসিডেন্ট রিচ ক্যাম্পবেল বলেন, এর আগে তাদের ক্রুজ একই দেশগুলোতে কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়েনি। রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে এবারই প্রথম এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রক্ষণশীল সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রেখেও পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। এদিকে জাহাজের যাত্রী ও সাংবাদিক র্যান্ডি স্লোভাচেক মন্তব্য করেন, তুরস্ক ও মিশরের এই সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশ দুটিই। অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, এমন বৈষম্যমূলক আচরণের পর তারা ভবিষ্যতে আর তুরস্ক বা মিশর ভ্রমণ করবেন না।
এএন